'পিরোজপুর সদর-নাজিরপুর-ইন্দুরকানী' এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন -১২৭, পিরোজপুর-১, এক সময় এই আসনের নির্বাচনী ফলাফল নির্ধারিত হতো জোটের অঙ্কে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমন্বিত ভোটব্যাংক ছিল বিজয়ের মূল চাবিকাঠি। সেই বাস্ততায় দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী ছিলেন অন্যতম প্রধান ভোট-ফ্যাক্টর। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলেছে, বদলেছে ভোটের হিসাবও।
অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিএনপি একক ভাবে নয়, বরং জোটের শক্তির ওপর ভর করেই এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। জামায়াতের সংগঠিত ভোট, মসজিদকেন্দ্রীক প্রভাব এবং ধর্মীয় আবেগ দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীকে বারবার এগিয়ে রাখত। স্থানীয়ভাবে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার পাশাপাশি দলীয় কাঠামোও ছিল দৃড়। এখন লড়াই হবে মাসুদ সাঈদী ও জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক অধ্যক্ষ আলমগীল হোসেনর মধ্যে।
বর্তমানে তাঁর ছেলে মাসুদ সাঈদী ও ধরে রেখেছেন বাবার ভোটব্যাংক, আস্থা অর্জন করে নিয়েছেন হিন্দুদের নিকটও, ভালোবেশে আগ্লে নিয়েছেন তারাও। এই আসনটি পূর্বেও জামায়াতের দখলে ছিল, বর্তমানে দলের চেয়েও ব্যক্তির ইমেজকে’ই প্রাধান্য দিচ্ছেন সাধারণ ভোটার’রা, এরই মধ্যে ভোটের হিসাব কষে নিয়েছেন রাজনৈতীক বিশ্লেসক ও পর্যাবেক্ষকেরা, তাদের ধারনা, এ আসনের প্রায় ৭০% ভোট পেয়ে বিজয় হওয়ার সম্ভনা রয়েছে মাসুদ সাঈদীর, দলীয় প্রতীক নয় বাবার ইমেজকে প্রাধান্য দিয়েই সাদরে গ্রহন করছেন মাসুদ সাঈকে।
অন্যদিকে বিএনপি এবার জোটের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। মাঠপর্যায়ে দলীয় ভোট ধরে রাখাই তাদের প্রধান কৌশল। ফলে একসময় যেখানে বিএনপি ও জামায়াত একই কাতারে ছিল, সেখানে এবার দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে।
সব মিলিয়ে এই আসনের নির্বাচন আর অতীতের মতো জোট নির্ভর নয়। ইতিহাসের ভার থাকলেও বর্তমান রাজনীতি দাঁড়িয়ে আছে ভিন্ন বাস্তবতার ওপর। এবারের লড়াই তাই শুধু দুই প্রার্থীর নয়, বরং পুরোনো জোট রাজনীতি বনাম নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির মধ্যকার একটি পরীক্ষাও বটে।
এদিকে কেউ কেউ মনে করছে জামায়েতে ইসলামী শেখ হাসিনার পতনের পরে পূর্বের থেকেও নতুন ভোট তৈরিতে এগিয়ে আছে বিএনপির চেয়ে। বিএনপির মাঠে জনসভার চেয়ে জামায়েতে ইসলামীর ঘরোয়া পরিবেশে কর্মী সভা তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও সাধারন মানুষের আস্থা অর্জনের সক্ষম হয়েছে বেশি।
এদিকে স্থানীয় সাধারণ ভোটাররা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নামধারী আওয়ামীলীগ পদধারী ব্যক্তিদের বিএনপিতে যোগদান করায় বিএনপি পিছিয়ে রয়েছে, এছাড়া ৫ আগষ্ট পরবর্তী দলীও কোন্দল এবং উশৃঙ্খল কর্মীদের কারনে, বেপড়োয়া কর্মীরা এলাকার বিভিন্ন সাধারণ মানুষের সাথে চাঁদাবাজী সহ মেতে উঠেছে বিভিন্ন দখলবাজীতে। তবে বর্তমানে রাজনীতির মাঠে নামাচ্ছেন, বিএনপির পরিচ্ছন্নকর্মীদের,দূরে রাখছেন উশৃঙ্খল ও বেপড়োয়া কর্মীদের।