বিশেষ প্রতিনিধি
নির্বাচনের জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতিসহ জাতি প্রস্তুত থাকলে ডিসেম্বরে জামায়াতেরও নির্বাচনে যেতে কোন সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন দলের আমির শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন। আদালতের রায়ে দলীয় নিবন্ধন ফিরে পাওয়ায় ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জামায়াত।
বিএনপির পক্ষ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে থেকে নির্বাচনের জোর দাবি জানানো হচ্ছে। ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে জামায়াত প্রস্তুত কী না। ওই প্রশ্নের উত্তরে শফিকুর রহমান বলেন, “ না, ডিসেম্বর কেন, আজকেও যদি দেখি যে সমতল মাঠ তৈরি হয়ে গেছে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে জাতি প্রস্তুত, সকল অঙ্গ প্রস্তুত, তাহলে তো আমরাও নির্বাচনে যাব। আমাদের নির্বাচন যেতে কোন সমস্যা নেই। এই বিষয়গুলো পরিস্কার না করে, ডিসেম্বর কিংবা এপ্রিলে বলে কোন লাভ হবে না। “
যারা নিবন্ধন কেড়ে নেয়া ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমাদের অধিকার অন্যায্য ভাবে যারা ব্যবস্থা নিয়েছে তাদের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার এখনো পরিকল্পনা নিচ্ছিনা। এই বিষয়ে আমরা চিন্তা করবো।
নির্বাচন কমিশনের উপর আপনাদের আস্থা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে সময় দিতে চাই। আমরা তাদের পারফরম্যান্স আরো দেখতে চাই। তারা কর্ম দিয়েই নিজেদের অবস্থার পরিষ্কার করবে। স্থনীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের ইউনিয়ন কমিশনার ছাড়া আর কোনো পর্যায়ে কার্যক্রম নেই। এর কারনে জনগন কষ্টে আছে। তাই স্থানীয় নির্বাচন আগে হওয়া দরকার বলে মনে করি। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন তাদের সামর্থ্য দেখাতে পারবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এক কোটি ১০ লাখ প্রবাসীকে ইগনোর করে কোনো সফলতা দেখা যাবে না। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ভোটের অধিকার না দেওয়া হবে নির্মম উপহাস। এতে দেশের অর্থনীতি করুন পরিনতির দিকে যাবে। এতে আমাদের কোনো কম্প্রোমাইজ নেই। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
আদালতের রায় অনুযায়ী জামাতের নিবন্ধন ও প্রতীক অফিসিয়ালি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে নির্বাচন কমিশনে প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের চেয়ারের মর্যাদা রক্ষা করবেন বলে আমরা আশা করি। এজন্য জামায়াত সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। কিন্তু কোনো ব্যতিক্রম দেখলে জামায়াত চুপ থাকবে না।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়ারও দাবি জানান।
জামায়াত আমির বলেন, জীবনবাজি রেখে যারা পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছিলেন, তাদের লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিজমকে বিদায় করা। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ফ্যাসিস্টরা বিদায় নিয়েছে, কিন্তু ফ্যাসিজম রয়ে গেছে। এর কালো ছায়া এখনো জাতির ঘাড়ে রয়ে গেছে। ফ্যাসিজমকে পুরোপুরি বিদায়ের লক্ষ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দরকার। যার মধ্য দিয়ে একটা ন্যায্য সরকার গঠিত হবে। যারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। কিন্তু নির্বাচনটা কীভাবে হবে? এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর রয়েছে ঐতিহাসিক অবদান।