ঢাকা | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার জামিনের প্রতিবাদে আইনজীবীদের আদালত বর্জন কর্মসূচি

author
বরিশাল অফিস

প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৩
ad003
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুসসহ পরপর কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতাকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে বরিশালে দুটি আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে তারা বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারিক কার্যক্রম বর্জন করেন।

মাত্র ৬ দিনের ব্যবধানে বরিশালে আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক দুই এমপি। শুধু এই দুজন নয়, গত এক সপ্তাহে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতিসহ অন্তত ৩ প্রভাবশালী নেতা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে। পাশাপাশি জামিন পেয়েছেন আওয়ামী লীগসহ দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আরও অন্তত ডজনখানেক নেতা। বিষয়টি নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে। আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীদের দাবি-নিয়ম মেনেই জামিন দিচ্ছেন বিচারক। যদিও তা মানতে নারাজ ৫ আগস্টের পর আদালত অঙ্গনে নিয়োগ পাওয়া আইন কর্মকর্তারা। জামিন অযোগ্য ধারার কথা উল্লেখ করে বিরোধিতা সত্ত্বেও আসামিদের জামিন দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম শরিয়তউল্লাহর আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি, সাবেক এমপি তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস। বরিশালে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ওই মামলা হয়েছিলো। ইউনুস ছাড়াও মামলাটিতে আসামি রয়েছেন সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীরসহ দলের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা। আওয়ামী লীগ সরকার পতন এবং মামলার কারণে ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক ছিলেন তালুকদার ইউনুস। হঠাৎ হাজির হয়ে তার এই জামিন আবেদনে তোলপাড় হয়ে ওঠে আদালত প্রাঙ্গণে। মহানগর ও জেলার দুই পাবলিক প্রসিকিউটরসহ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদক ছুটে যান আদালতে। মামলায় জামিন অযোগ্য ধারা এবং আবেদনের প্রথম তারিখ হওয়ায় তাকে জামিন না দেওয়ার অনুরোধ করেন তারা। কিন্তু শুনানী শেষে আদালত তাকে মামলায় পুলিশ রিপোর্ট দেয়া পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর আদালত ত্যাগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার আদালত প্রাঙ্গনে দুটি আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বিএনপিপন্থী আইনজীবী নেতা হাফিজ আহমেদ খান বাবলু। তিনি বলেন, জামিন অযোগ্য ধারায় দায়ের করা মামলায় এভাবে জামিন দেওয়ার সুযোগ নেই। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী হওয়া সত্ত্বেও তার অনুপস্থিতিতে জামিন শুনানি হয়েছে এবং তাকে শুনানিতে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। শুনানিতে কেবল রাষ্ট্রপক্ষের তিনজন ও আসামিপক্ষের তিনজন আইনজীবী অংশ নেন। এভাবে একের পর এক জামিন দিলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। অজামিনযোগ্য ধারায় আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটালে তার দায় সরকারের ওপর বর্তাবে।

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ওবায়দুল্লাহ সাজু বলেন, তালুকদার মো. ইউনুসের বিরুদ্ধে এই মামলায় সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না থাকায় আদালতে আইনি ব্যাখ্যা উপস্থাপনের পর বিচারক জামিন মঞ্জুর করেছেন। তিনি জানান, ইউনুসের বিরুদ্ধে থাকা আরেকটি মামলা বর্তমানে পুলিশ তদন্ত করছে এবং ওই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের আগ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

জানা গেছে, তালুকদার মো. ইউনুস বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন। সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি নিয়মিত আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন। গত ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি আত্মগোপনে যান এবং ওই সময় তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা হয়।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT