ঢাকা | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেনীর দাগনভুইয়া যাকাত বিতরণে হামলার অভিযোগ, সাংবাদিক পরিবারে আতঙ্ক

author
ফেনী প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৯ মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬
ad003
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় দঃ ধর্মপুর গ্রামে দরিদ্র মানুষের মাঝে যাকাত বিতরণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক সাংবাদিকসহ তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। 

ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের ফেনী জেলা শাখার সভাপতি, আরটিভি ও দৈনিক যায়যায়দিনে ফেনী প্রতিনিধি  এম এইচ আজাদ মালদার জানান, রোববার (৮ মার্চ ২০২৬) তার প্রতিষ্ঠিত জাকের মালদার ফাউন্ডেশন -এর উদ্যোগে এলাকায় দরিদ্র মানুষের মাঝে যাকাত বিতরণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। এসময় প্রায় দেড় শতাধিক অসহায় মানুষ যাকাত গ্রহণের জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, যাকাত বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে নজরুল ইসলাম হারুন (প্রকাশ সাগর) তার দলবল ইট পাটকেল নিয়ে অতর্কিতভাবে সেখানে হামলা চালায়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা উপস্থিত অসহায় মানুষদের গালাগাল করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয় এবং যাকাত বিতরণ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা বসতঘরের দরজা বন্ধ করে সাংবাদিক আজাদ মালদার, তার ছোট ভাই মাইন উদ্দিন,বোন ও স্ত্রীকে মারধর করে।

পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। আহতরা দাগনভুইয়া সদর  হাসপাতালে চিকিৎসা  নেন। 

অভিযোগ রয়েছে, একইদিন বিকাল প্রায় ৫টার দিকে অভিযুক্ত শরিফ   রাকিব,শাহাদাত  এনামুল হক  ও তার ছেলে  হারুনসহ  এলাকায় পুনরায় মব সৃষ্টি করে  ৫০ বছরের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মালদার পাঞ্জেগানা মসজিদ এবং সাংবাদিক আজাদ মালদার ও তার ভাইদের বসতঘরে হামলা চালায়। এ সময় ভাঙচুরের পাশাপাশি তারা আবারও বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সন্ত্রাসীরা আনুমানিক দশ লাখ টাকা  সম্পদ হানী করেছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে  অভিযোগ  গ্রহন করেছেন। 

জানা গেছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রায়   দেড়   বছর ধরে একটি মামলা চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা ওই মামলায় নন-জিআর  ১৩/২৫ (এনজিআর) মামলায় জামিনে রয়েছেন। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জামিনে মুক্ত থাকার সুযোগে তারা এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তারা।

এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি  করেন। 

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT