ঢাকা | বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই লেনের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক প্রশস্তের পরিকল্পনা রয়েছে: শেখ রবিউল

author
বরিশাল অফিস

প্রকাশিত : ১৭ মার্চ, ২০২৬ দুপুর ৩:৩৬
ad003
সড়ক, রেলপথ, নৌপরিবহন এবং সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঢাকা বরিশাল মহাসড়কটি দুই লেনের রাস্তা। রাস্তাটি প্রশস্ত করা দরকার। এটা সরকার উপলব্ধি করে, আমরাও উপলব্ধি করছি। আর এবার এসে সরাসরি দেখে গেলাম। রাস্তাটির কাজ দ্রুত কীভাবে শুরু করা যায় সেই পরিকল্পনা সরকারের আছে। বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার, এ সরকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়। বিশেষ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া একটি জাতি সমৃদ্ধ হতে পারে না। অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বরিশালের বাকেরগঞ্জের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত গোমা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জের রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতুর কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৯ বছর পর। সেতুটির দৈর্ঘ্য ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার ও প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার। মঙ্গলবার সেতুটির উদ্বোধন করেন সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। উদ্বোধনের পরই সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।সেতুটি চালু হওয়ায় বরিশালের বাকেরগঞ্জের সঙ্গে পটুয়াখালীর দুমকির সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। দুই জেলার প্রত্যন্ত এলাকার অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি লাঘব হয়েছে এই সেতুর মাধ্যমে। সময়ও কমে আসবে প্রায় দুই ঘণ্টা।

সেতু উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী আরও বলেন, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করা চ্যালেঞ্জিং। এখন পর্যন্ত ঈদযাত্রায় কোনো অভিযোগ নেই। স্বস্তিতে মানুষ যাচ্ছে, যানজট বা সড়কে কোনো অব্যবস্থাপনা নেই। মনে রাখতে হবে, ঈদ উপলক্ষে মাত্র দুই-তিন দিনে দেড় কোটি লোক ঢাকা ছাড়ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যে প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি, তাতে আমরা নিশ্চিত যে যাত্রীরা স্বস্তিতে আরামদায়ক যাত্রার মাধ্যমে স্বজনদের কাছে যাবে।’

সেতু ও নৌ মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা নিয়মিত সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিং করে সচল রাখি। এর মধ্যে ১২ শ কিলোমিটার নৌপথ খনন চলছে। সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার নৌপথ নিয়ে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। ঢাকা সদরঘাট থেকে বরিশাল ও ভোলা নৌপথে অবাধে নৌযান চলাচল করতে পারবে, সেই প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। ঈদযাত্রায় মানুষ আনন্দিত।

এ সময় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান, বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন ও পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, রাঙ্গামাটিয়া নদীর ওপর ২০১৭ সালে ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্প হিসেবে গোমা সেতুটি অনুমোদন পায়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। গোমা সেতুর কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৯ বছর পর। শুরুতেই উচ্চতা নিয়ে আপত্তি তোলে বিআইডব্লিউটিএ। 

তাদের দাবি ছিল, নদীপথ সচল রাখতে সেতুর উচ্চতা আরও বাড়াতে হবে। প্রথম নকশায় সেতুর মাঝ বরাবর সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় উচ্চতা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ৬২ মিটার, পরে তা বাড়িয়ে ১২ দশমিক ২০ মিটার করা হয়। এই পরিবর্তনের কারণে পুরো নকশাই সংশোধন করা হয়। নতুন নকশায় সেতুর মাঝে স্টিল ট্রাস স্প্যান যুক্ত করতে হয়। নকশা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ ও নদী শাসনের কাজ যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পটির সময়সীমা পাঁচবার বাড়ানো হয়। সংশোধিত প্রকল্পে সেতুর ব্যয় দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যা প্রাথমিক ধারণার তুলনায় ৬০ শতাংশ বেশি।


সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT