জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য হতে চান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিএনপি নেত্রী অ্যাডভোকেট জেসমিন আক্তার।
তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি। এর আগে তিনি জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও তিনি জেলা আইনজীবী ফোরামের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।
দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করতে গিয়ে ত্যাগ-তীতিক্ষার মূল্যায়ন চান অ্যাডভোকেট জেসমিন আক্তার। তিনি সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন। অ্যাডভোকেট জেসমিন আক্তার বলেন, 'জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শকে মনে প্রাণে লালন ও ধারন করে চিরকাল এ দলের জন্য কাজ করতে চাই।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম সেনানিবাসে বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে ছোটবেলা থেকে শিক্ষাজীবন পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেছেন। কলেজ জীবন থেকে জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি জানান, ২০০৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২০১২ সালে সদর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি পদ লাভ করি। এছাড়া আইনজীবী ফোরামের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্বে আছি।
জেসমিন আক্তার বলেন, আমার ভাসুর ও আপন ফুফাতো ভাই জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মোঃ হাবিবুল্লাহ ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় নিহত হন। বিডিআর হত্যাকান্ডে নিহত ৫৭ জন সেনা সদস্যের মধ্যে একজন কর্ণেল এমদাদ আমার চাচা।
আমার দাদা ক্যাপ্টেন আব্দুল মোতালেব সামরিক বাহিনীতে চাকুরি করাকালীন সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের (পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি) নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছেন। একই সেক্টরে আমার মামা হাবিলদার আব্দুর রহিম জিন্নাহ, বড় কাকা হাবিলদার আব্দুল আজিজও যুদ্ধ করেছেন।
তিনি বলেন, আমার স্বামী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর বিএনপির ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। আমার দেবর শেখ মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমার শ্বশুর বাড়ির ১৪ জন কারাভোগ করেন।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালে আমার দেবর হাফিজকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। আমার সন্তানরা তখন ছোট ছিলো। বড় ছেলে ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়তো। আমার ছেলেকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে, মামলা দিবে সেই ভয়ে আমি আমার এই ছোট্ট ছেলেকে তখন থেকেই হোস্টেলে রেখে পড়াশুনা করাই।
তিনি বলেন, আমার ও আমার পরিবারের দীর্ঘদিনের ত্যাগ তীতিক্ষা বিচার করে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে বলে আমার বিশ্বাস।