ঢাকা | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্দোলনে অবরুদ্ধ বরিশাল নগর, শেবাচিমে অনশনে শিক্ষার্থীরা ‎

author
বরিশাল অফিস

প্রকাশিত : ১২ আগস্ট, ২০২৫ সকাল ৮:০৬
ad003
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বরিশাল আসার দাবিতে ৫ম দিনের মতো চলছে বরিশাল ব্লকেড কর্মসূচি। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। একই সময় নগরীর সদর রোড অবরোধ করেছে কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে আন্দোলন পৌঁছালো ১৫ দিনে। অন্যদিকে একই দাবীতে শেবাচিম হাসপাতালের মুল ফটকে অনশনে বসেছেন শিক্ষার্থীরা। অনশনরত দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বরিশালে আসাসহ তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বরিশাল নগরী। যানজট, গাড়ির সংকট এবং হয়রানিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষও দ্রুত দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবুও সরকারের টনক না নড়ায় ১৫ দিনের মত চলা আন্দোলন রুপ নিয়েছে বরিশাল ব্লকেডে। গত ৫ দিন পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহা সড়ক ব্লকেড করেও কোন ফল পাননি ছাত্র-জনতা। আাসেনি সরকারের পক্ষ থেকে কোন বাণী। তাই মঙ্গলবার (১২ আগষ্ট) একই কর্মসূচি পালন করেছেন ছাত্র-জনতা। আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে নগরীর নথুল্লাবাদ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কসহ আবরোধ করা হয় নগরীর প্রানকেন্দ্র সদর রোড। এতে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকলেও স্বাস্থ্য ভোগান্তির কথা চিন্তা করে সাধারণ মানুষ এই আন্দোলনকে সাদুবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে একই দাবীতে শেবাচিম হাসপাতালের মুল ফটকে অনশনে বসেছেন শিক্ষার্থীরা। অনশনরত দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। মঙ্গলবার অনশনকারী শিক্ষার্থীদের দেখতে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর। তিনি শিক্ষার্থীদের জানান, ছাত্র-জনতার দাবী আদায়ে এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছেন হাসপাতাল প্রশাসন। অনেকগুলো বাস্তবায়নও করেছেন। বাকিগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। 

আন্দোলনকারীদের মধ্যে সিফাত নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে আসছি। কিস্তু এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার আলোচনা করেনি। যতদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যখাত সংস্কার না হবে তত দিন পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আরেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, আমাদের সঙ্গে কথা না বলে সরকার ভুল করছে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে বরিশালে আসতে হবে। এসে দাবি মেনে নিতে হবে। নয়তো আমাদের আন্দোলন থামানোর সাধ্য কারো নেই। শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার চেয়ে অনশনে বসা দুজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দাবি না মানলে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারন করবে। আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনে সরকার সাড়া দিচ্ছে না। অথচ পুলিশ-সেনা বাহিনী ব্যবহার করে ভয় দেখাচ্ছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মতোই আচরণ করছে। আমরা এবার স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
JJD_Online

JJD_Online

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT