তেলের সংকোট এড়াতে স্কুলগুলোতে ইলেকট্রিক বাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বাসের বহুমাত্রিক ব্যবহার ঠেকাতে নির্দিষ্ট কালার কোড ব্যবহার করা হবে। আর তেলের এই সংকোট সময়ে অফলাইন ও অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে রাখার কথা ভাবছে সরকার। মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ.ন.ম এছাহনুল হক মিলন প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা ভেংগে যাওয়ার পিছনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক কিংবা শিক্ষকরা দায়ী নন, মুলত দায়ী হচ্ছেন যারা মধ্যম স্থানের চেয়ার দখল করে রয়েছেন তারা। শিক্ষার পরিবেশ তৈরী করার জন্য নবীন ছাত্র-ছাত্রীদের থ্রেট নয় সহযোগীতা করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নৈরাজ্য থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য তাদের বিএনসিসি, ক্যাডেটসহ নানা সহশিক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত করতে হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কোচিং বানিজ্য বন্ধ করতে সরকার সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। কিন্তু অনেক অভিভাবক আরও ভাল করার আশায় শিক্ষার্থীদের কোচিং করতে বাধ্য করেন। এতে করে একটা শ্রেনী এই শিক্ষাটাকে কোচিং বানিজ্যে রূপান্তরিত করেছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাবলিক পরীক্ষা আইন ১৯৮০ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। শিগগিরই তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংশোধিত আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা নয়, চাকরি ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষাও এই আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কেউ নকল করে পার পাবে না। শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার তালিকায় শিক্ষা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা খাতে ধস নামার পেছনের কারণগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিগত সরকার ২০০টির বেশি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। যেগুলোতে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সদর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল বারী ও বরিশাল প্রেস ক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু।