ঢাকা | শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চউক চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে

author
ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৭
ad003
সরকার পরিবর্তন হলে পরিবর্তন আসে সরকারি বিভিন্ন সংস্থায়। যার ধারাবাহিকতায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে। বর্তমানে এ পদে আসীন আছেন আন্তবর্তীকালীন সরকারের নিয়োগ দেওয়া প্রকৌশলী মো. নুরুল করীম। 

কিন্তু ত্রয়োদশ নির্বাচনের পর এ পদে এখন আলোচনায় আসছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতার নাম। এমন ভাষ্য চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের। নেতাকর্মীরা জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে এমন কেউ আসবেন, যিনি বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের দু:শাসনের আমলে দলের জন্য অবদান রাখতে গিয়ে নির্যাতীত হয়েছেন পদে পদে। কিন্তু হাল ছাড়েননি মোটেও। সেই সাথে সৎ ও নীতিবান ছিলেন, এমন কাউকে এ পদে আনবেন দলীয় নীতি-নির্ধারকরা-এমন আশা দলীয় নেতাকর্মীদের। 

নেতাকর্মীরা বলছেন, এ পদে ইতিমধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছেন অনেকের নাম। এরা হলেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ স¤পাদক আবুল হাশেম বক্কর, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহŸায়ক নিয়াজ মোহাম্মদ খান, আহমেদ উল আলম চৌধুরী রাসেল, মনজুর আলম মঞ্জু, ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহŸায়ক কর্নেল আজিম উল্লাহ বাহার।

আবুল হাশেম বক্কর:  ২০১৭ সালের ৭ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আবুল হাশেম বক্কর। এই কমিটির সভাপতি ছিলেন বিএনপির হাই কমান্ডের কাছে গুডবুকে থাকা ডা. শাহাদাত হোসেন। যিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে আসীন আছেন। আর এই সময়ে রাজপথে তিনি আওয়ামী দু;শাসনের শিকার হয়েছিলেন।   

চউকের চেয়ারম্যান পদের বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, দলের শীর্ষ নেতা ও নীতি-নির্ধারকরা আছেন। তারা যে সিদ্ধান্ত নেন, যাকে দেন তিনিই চউকের চেয়ারম্যান পদে আসীন হতে পারেন। আমি চাইতেই পারি। কিন্তু চাইলেই যে পাব তা তো না। 

অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী দু:শাসন আমলে ওতো আমি মৃত্যু ঝুঁকিতে ছিলাম। হয় ক্রস ফায়ার, নয় গুম-এমন আশঙ্কা নিয়ে সময় কাটিয়েছে। কিন্তু রাজপথ ছাড়েনি। আন্দোলন সংগ্রামে আমিই ছিল অগ্রদূত। আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী ষড়যন্ত্রে দায়ের ডজন খানেক মামলা এখনও চলমান। 

শামসুল আলম চউকের চেয়ারম্যান হিসেবে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শামসুল আলম। বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে আওয়ামী শাসনামলে ব্যবসা বাণিজ্যে তিনি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইলেও বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে তাঁকে নিয়ে আলোচনা চলছে বেশ। 

বাকলিয়ার ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান শামসুল আলম কোতোয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি ও নগর বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। ২০০৮ সালে নগরীর বাকলিয়া-কোতোয়ালি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্ধিতা করে অল্প ভোটে পরাজিত হয়েছেন।

নিয়াজ মোহাম্মদ খান:  চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহŸায়ক নিয়াজ মোহাম্মদ খান নগরীর পাঠানটুলি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন কয়েকবার। ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও সিডিএর বোর্ড সদস্যও। ফলে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে চউক নিয়ে। তিনি বলেন, দায়িত্ব পেলে চট্টগ্রামের উন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা রাখতে চাই আমি। 

শওকত আজম খাজা : মহানগর বিএনপির  যুগ্ম আহবায়ক শওকত আজম খাজা নগর রাজনীতিতে আলোচিত নাম। সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে দেশজেুড়ে পরিচিত রয়েছে। আন্দোলন সংগ্রামের সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এ নেতা চট্টগ্রাম-১ মীরসরাই আসন থেকে এবার দলীয় মনোনয়ন চেয়েও বঞ্চিত হয়েছেন। এবার তিনি কাজ করতে চান চউক তে।

ইয়াছিন চৌধুরী লিটন: চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন। ছিলেন নগর যুবদল ও ছাত্রদলের মূল দায়িত্বে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা সাবেক এ ছাত্রনেতা বিগত দেড় দশকে ধরে হাসিনা বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন জীবনের ঝুকি নিয়ে। সারাদিন রাজনীতি নিয়েই তাঁর ধ্যান জ্ঞান। ফলে তাঁকে এবার মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে ধারণা অনুসারীদের।

আজিম উল্লাহ বাহার: চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) চেয়ারম্যান পদে নতুন নিয়োগে জল্পনা-কল্পনা চলছে ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহŸায়ক কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহারকে নিয়ে। রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার ত্যাগ, তিতিক্ষা এবং নানা প্রতিক‚লতার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক হামলা ও মামলা থাকলেও তিনি কখনো নীতি থেকে বিচ্যুত হননি বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান।

স্থানীয় বিশিষ্টজনরা মনে করেন, তিনি একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অপপ্রচারের অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তার শৃঙ্খলা, সততা ও নেতৃত্বগুণ চট্টগ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখতে পারে বলেও মত প্রকাশ করেন তারা।

চট্টগ্রামের সচেতন মহলের দাবি, সিডিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে একজন দক্ষ, সৎ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তির প্রয়োজন। সেই বিবেচনায় কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহারকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান নগরবাসীর একটি বড় অংশ। এ বিষয়ে কথা বলতে এ নেতার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। 

চউক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কানিজ ফাতেমা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে প্রকৌশলী মো. নুরুল করিমকে তিন বছর মেয়াদের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-স¤পর্ক ত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছর মেয়াদে এ দায়িত্বে থাকবেন তিনি। সেই হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া নুরুল করিমের মেয়াদ এখনও শেষ না হলেও সিডিএর চেয়ারম্যান হতে শোনা যাচ্ছে বেশ কজনের নাম। 

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সাল থেকে যুগ্মসচিব পদমর্যাদার এই পদে চুক্তিভিত্তিক রাজনৈতিক নিয়োগ দিয়ে আসছে সরকার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মোহাম্মদ ইউনুছের মেয়াদ চার মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর তাঁর নিয়োগ বাতিল করে প্রকৌশলী মো. নুরুল করিমকে সিডিএ চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়।

এসময় বোর্ড সদস্য করা হয় ৬ জনকে। তাঁরা হলেন- ইঞ্জিনিয়ার মানজারে খোরশেদ আলম, দৈনিক আমার দেশ এর আবাসিক স¤পাদক জাহিদুল করিম কচি, হাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, স্থপতি সৈয়দা জারিনা হোসাইন, স্থপতি ফারুক আহম্মেদ, মো. সাখাওয়াত হোসাইন এবং অ্যাডভোকেট সৈয়দ কুদরত আলী।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT