চাঁদপুর শহরের পালপাড়া এলাকায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা দুটি বহুতল ভবন হেলে পড়ায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। যে কোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কায় প্রশাসন ভবন দুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে দ্রুত খালি করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চারতলা দুটি ভবনের একটি হেলে অন্যটির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এতে করে উভয় ভবনের কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনের দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে এবং নিচে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভবন দুটি যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে।
খবর পেয়ে সোমবার সকালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তারা ভবন দুটিকে বসবাসের জন্য সম্পূর্ণ অনিরাপদ ঘোষণা করেন এবং বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
ভবন মালিক মো. শাহজাহান জানান, তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে থাকায় নির্মাণকাজ তদারকি করতে পারেননি। তবে কী কারণে ভবনটি হেলে পড়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ২০১২ সালে প্রবাসী এ ব্যক্তি চারতলা বিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ করেন।
অপর ভবন মালিক মো: শাহ আলম ঢালী জানান, ২০১২ সালে তিনি চারতলা ভবন নির্মাণ করেন। পৌরসভার নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু, তার প্রতিবেশী মো: শাহজাহান এর ভবন হেলে তার ভবনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এতে করে তিনি আতংকে রয়েছেন। বিষয়টি তিনি চাঁদপুর পৌর কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেন।
চাঁদপুর উত্তর ফায়ার স্টেশনের ফায়ার লিডার মো. এনামুল হক ভূঁইয়া জানান, ভবনটি প্রায় ১০ ইঞ্চি হেলে পড়েছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তার ভাষায়, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। হেলে পড়া ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাঁটল দেখা দিয়েছে।
এদিকে চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন জানিয়েছেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে ভবন দুটি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, ভবনের বাসিন্দাদের সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। তাদের দ্রুত মালামাল সরিয়ে নিতে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়সীমা বেধে দেয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে রোববার বিকেলে ভবন দুটিতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: রাসেল ও মো: গিয়াসউদ্দিন জানান, নির্মাণকাজে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং তদারকির অভাবেই এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
বর্তমানে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পাশ দিয়ে চলাচল করতেও ভয় পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পুরো এলাকা যেন এক অজানা বিপদের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।