ঢাকা | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন্দ্রে অব্যবস্থাপনা গণিত পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীর ফলাফল

author
তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৪ মে, ২০২৬ সকাল ১১:৩১
ad003
বরগুনার তালতলীতে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় এক শিক্ষার্থীকে ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। 

গতকাল রোববার (৩ মে) গণিত পরীক্ষায় তালতলী সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, উপজেলার বড়বগি ইউনিয়নের পূর্ব সওদাগর পাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম খানের কন্যা মোছাম্মৎ নাইমা তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে তালতলী কেন্দ্রের ৪ নম্বর হলে পরীক্ষা দিয়ে আসছিল। তার রোল নম্বর ২০৯৫৬৭ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৩১৫১৭৫৯৯৫।

অভিযোগ অনুযায়ী, গণিত পরীক্ষার দিন অন্য শিক্ষার্থীরা সময়মতো প্রশ্নপত্র পেলেও নাইমা শুরুতে প্রশ্নপত্র পাননি। প্রায় পাঁচ মিনিট পর দায়িত্বপ্রাপ্ত এক শিক্ষক অন্য হল থেকে একটি প্রশ্নপত্র এনে দেন। ওই শিক্ষক তাকে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু পরে জানা যায়, তাকে ২০২৬ সালের নিয়মিত সিলেবাসের পরিবর্তে ২০২৫ সালের অনিয়মিত সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছিল। 

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে নাইমা জানায়, পরীক্ষার সময় বিষয়টি বুঝতে না পেরে সে প্রশ্নপত্র অনুযায়ীই উত্তর লিখে। পরে বাড়িতে গিয়ে সিলেবাস মিলিয়ে দেখার পর ভুলটি ধরা পড়ে। এতে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তাহের বলেন,নাইমা আমাদের নিয়মিত শিক্ষার্থী। তাকে ভুলবশত ২০২৫ সালের অনিয়মিত প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে, যা তার জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তিনি আরও জানান, একই পরীক্ষায় তাদের আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতিকে ‘খ’ সেটের পরিবর্তে ‘ঘ’ সেট প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা হল সচিব মাওলানা শফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,নাইমাকে অনিয়মিত প্রশ্ন দেওয়া হয়নি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ টিপু সুলতান বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বোর্ড কন্ট্রোলারকে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীকে পরবর্তী পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান,রাত ৯টার দিকে অভিযোগ পাওয়ার পর বোর্ড কন্ট্রোলার ও ডেপুটি কন্ট্রোলারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবকে শিক্ষার্থীর রোল নম্বরসহ বোর্ডে আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT