ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতা থেকে সক্ষমতা, প্রকৃতি ছাড়া ভবিষ্যৎ নেইঃ গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক কর্মসূচিতে বক্তারা

author
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৮ মে, ২০২৬ সকাল ৯:৫৭
ad003
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি, জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষতিকর প্রভাব এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কক্সবাজারের টেকনাফে পালিত হয়েছে “গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক ২০২৬”। টেকনাফ ইয়ুথ হাবের উদ্যোগে এবং ActionAid Bangladesh ও SHED-এর সহযোগিতায় Activista Teknaf Team ও স্থানীয় যুব সংগঠন UDOY যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। “From Independence to Resilience – No Future Without Nature” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় টেকনাফ উপজেলা শহীদ মিনার চত্বরে।

এই জলবায়ু কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের সদস্য, শিক্ষক, তরুণ জলবায়ু কর্মী এবং স্থানীয় সাধারণ জনগণ। অংশগ্রহণকারীরা একসাথে জলবায়ু ন্যায়বিচার, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নের দাবিতে কণ্ঠ মিলান।

কর্মসূচিতে তরুণরা রঙিন প্ল্যাকার্ড, হাতে লেখা ব্যানার ও সচেতনতামূলক বার্তার মাধ্যমে জলবায়ু সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরেন। টেকনাফের উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্র ভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, প্লাস্টিক দূষণ এবং মানুষের জীবিকা সংকটের বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। অংশগ্রহণকারীরা প্লাস্টিক বর্জ্য ও পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তরুণ জলবায়ু কর্মীরা “Climate Justice Now”, “Stop Fossil Fuel”, “Act Now – No More Excuses”, “Fund Our Future” এবং “System Change, Not Climate Change” সহ বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে বিশ্ব নেতাদের প্রতি জরুরি জলবায়ু পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তারা একটি ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক “Just Transition” নিশ্চিত করার দাবি তোলেন, যেখানে তরুণ, নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ এবং টেকনাফের মতো উপকূলীয় অঞ্চলগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব বহন করছে। ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও পরিবেশ দূষণের কারণে স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। তাই এখনই জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই।

Activista Teknaf Team এবং UDOY-এর তরুণ প্রতিনিধিরা বলেন, তরুণ সমাজ আর নীরব থাকবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত করতে জলবায়ু ন্যায়বিচারের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

আয়োজকরা জানান, দেশব্যাপী তরুণদের নের্তৃত্বে পরিচালিত এই বৈশ্বিক জলবায়ু আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে টেকনাফেও ভবিষ্যতে আরও পরিবেশবান্ধব ও জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT