প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর চাঁদপুর আগমনকে কেন্দ্র করে বদলে যেতে শুরু করেছে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী “বিশ্ব খাল”।
দীর্ঘদিন অবহেলা, দখল ও নাব্যতা সংকটে কার্যত মৃতপ্রায় হয়ে পড়া খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় এই বিশ্ব খাল ছিল এলাকার কৃষি, নৌ যোগাযোগ ও পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কিন্তু বছরের পর বছর খনন না হওয়া, পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে দখলের কারণে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগে পড়েন কয়েকটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ।
জানা গেছে, প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বিশ্ব খালটি ডাকাতিয়া নদীর পাড় থেকে শুরু হয়ে গোসারহাট এলাকা অতিক্রম করে মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাধি দক্ষিণ ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে মেঘনা-ধনাগোদা নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত এ খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, নৌ চলাচল সহজীকরণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, খালটি আধুনিক মেশিন ও হেড কেরিন ব্যবহার করে খনন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাড লেভেল থেকে অন্তত এক মিটার নিচ পর্যন্ত মাটি অপসারণ করা হবে, যাতে খালের পানিপ্রবাহ দীর্ঘমেয়াদে সচল থাকে।
খননকৃত মাটি ব্যবহার করে খালের দুই পাড় উঁচু করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয়দের চলাচলে নতুন সুবিধা সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুধু খননেই সীমাবদ্ধ থাকছে না প্রকল্পটি। খালের দুই তীরকে পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন করতে ২০ ফুট পরপর ফলজ ও বনজ গাছ রোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে খালের দুই পাড়ে গড়ে উঠবে সবুজ বেষ্টনী।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, এক কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পুরো কাজ পরিচালিত হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আতাবুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব খাল পুনঃখননের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরপরই মেশিন ও শ্রমিকের মাধ্যমে খনন কাজ শুরু হবে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছি।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সার্বক্ষণিকভাবে প্রকল্পটির অগ্রগতি তদারকি করছেন বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খালটি পুনরুদ্ধার করা গেলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব খালটি খননের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। অবশেষে উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকাজুড়ে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, যথাযথভাবে খনন কাজ সম্পন্ন হলে খালটি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।