ঢাকা | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে পঙ্গু করেছে অর্ন্তবর্তী সরকার

সংস্থার অনুদানের ২০ কোটি টাকাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে

author
যাযাদি রিপোর্ট

প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২৬ দুপুর ১:০৬
ad003
দেশের মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে পঙ্গু দিয়েছে করে দিয়ে গেছে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার। সংস্থার অনুদানের ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত এক প্রকার কেড়ে নিয়েছে। 

শনিবার দুপুরে ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই দাবি করেন সংস্থাটির সভানেত্রী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সাদারণ সম্পাদক ফিরোজা করিম নেলি, সহ-সভাপতি ফিরোজা খাতুন, সদস্য এলিনা শাম্মীসহ সংশ্লিষ্টরা। 

লিখিত বক্তব্যে সংস্থাটির সভানেত্রী দাবি করেন, অর্ন্তবর্তী সরকার সংস্থাটিকে রীতিমত পঙ্গু করে দিয়ে গেছে। সরকারের দায়িত্বশীলরা সংস্থার অনুদানের ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত এক প্রকার কেড়ে নিয়েছে। কেড়ে নেওয়া ওই টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে তৎকালীন মুখ্য সচিব মো. সিরাজ উদ্দিন মিঞা ওরফে সিরাজ উদ্দিন সাথী স্বাক্ষরিত আদেশে সোনালী ব্যাংক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্পোরেট শাখা থেকে অনুদানের ২০ কোটি টাকা এক প্রকার জোর করে তুলে নেওয়া হয়। যাকে অনেকটাই কেড়ে নেওয়া বলা যায়। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে টাকা হাতিয়ে নেয়। বিষয়টি সংস্থার সভানেত্রীসহ কাউকেই জানানো হয়নি। এমনকি তাদের কোন কিছু বুঝতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে অনুদানের টাকা কেড়ে নিয়ে নারীর ক্রীড়া, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের পথকে কেন বাধাগ্রস্থ করা হয়েছে, সে বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, ক্রীড়া-প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সভানেত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে ২০২২ সালের ২১ এপৃল এবং ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দুইটি চেকের মাধ্যমে মোট ২০ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে এফডিআর করে দেওয়া হয়। ওই টাকার লভ্যাংশের শতকরা ৮০ ভাগ টাকা বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য এবং বাকি ২০ ভাগ টাকা সিড মানির সঙ্গে যুক্ত হতে থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পরেও ২০২৫ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত লভ্যাংশ দেওয়া অব্যাহত ছিল।

ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, এরপর হঠাৎ লভ্যাংশের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে এর কারণ জানতে চেয়ে একাধিকবার ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তথ্য দিয়ে কোনো প্রকার সহযোগিতা করছে না। গত বছরের ৬ মে সংস্থার সাধারণ সম্পাদিকা ও হিসাবরক্ষক ব্যাংকে উপস্থিত হলে মৌখিকভাবে জানানো হয় যে, বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার ২০ কোটি টাকার অনুদান ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্র্বতীকালীন সরকার বাতিল করে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ফেরত নিয়েছেন। 

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT