ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুঠিয়ায় বাজারে উঠতে শুরু করেছে গুটি আম

author
পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৮ মে, ২০২৬ সকাল ৯:০০
ad003
অবশেষে শুরু হয়েছে আমের মৌসুম। প্রাসনের বেঁধে দেওয়া দিনক্ষণ মেনেই গত শুক্রবার থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন বাগানে শুরু হয়েছে গুটি আম পাড়া। মৌসুমের প্রথম ধাপে বানেশ্বর বাজারে উঠতে শুরু করেছে সেই আম। তবে চাষি ও ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, এখনও বেশির ভাগ বাগানের আম পুরোপুরি পাকেনি। তাই আপাতত সীমিত আকারেই চলছে আম সংগ্রহ।

সোমবার সকাল থেকে পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় ব্যস্ততা। কোথাও শ্রমিকেরা গাছে উঠে আম পাড়ছেন, কোথাও আবার ব্যবসায়ীরাই সরাসরি বাগান থেকে আম তুলছেন। তবে মৌসুমের শুরুতেই যেন কাঁচা আম বাজারে না আসে, সে বিষয়ে সতর্ক চাষিরা। তাঁদের আশঙ্কা, অপরিপক্ব আম বাজারে এলে যেমন দাম পড়ে যেতে পারে, তেমনই ক্ষুন্ন হতে পারে রাজশাহীর আমের সুনামও।

আম ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের নির্দেশ মেনেই গুটি আম নামানো শুরু করেছি। তবে প্রথম দিন খুব বেশি আম না পেড়ে। আজ সোমবার বেশি আম পাড়েছি। এখনও অনেক বাগানের আম পুরোপুরি পরিপক্ব নয়। তাই ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়াব। যেগুলো ভালো জাতের গুঠি আম সেগুলো ৯শ থেকে ১২শ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। এবং কিছু গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে ১৫শ থেকে ১৮শ টাকা মণ।

একই সুর চারঘাট উপজেলার- এলাকার চাষি সামাদ জানান, তাঁর কথায়, “গুটি আম উঠতে শুরু করলেও আসল মৌসুম শুরু হতে এখনও কয়েক দিন বাকি। তবে বেধে দেওয়া সময়ের আগেই গোপালভোগ আম এখনি বাজারে আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে খুব শিগগির অন্য জাতের আমও পাকতে শুরু করবে।

প্র্রতি বছরের মতো এ বারও নির্দিষ্ট সময়সূচি বেঁধে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। কৃষি দফতরের বক্তব্য, অপরিপক্ব আম বাজারে আসা আটকাতেই এই উদ্যোগ। তাতে এক দিকে যেমন ক্রেতারা ভাল ও নিরাপদ আম পাবেন, তেমনই চাষিরাও পাবেন ন্যায্য দাম।

জেলা প্রশাসনের সূচি অনুযায়ী, ২২ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানিপছন্দ ও লক্ষণভোগ, ৩০ মে থেকে হিমসাগর ও খিরসাপাত বাজারে তোলা যাবে। ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি সংগ্রহের অনুমতি মিলবে।

এর পর ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই গৌড়মতি আম বাজারজাত করা যাবে। তবে কাটিমন ও বারি আম-১১ সারা বছরই সংগ্রহ করা সম্ভব বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অফিস।

কৃষি বিভাগের হিসেব বলছে, এ বার রাজশাহী জেলায় প্রায় ১৯ হাজার ৬৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন। সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৭৮০ কোটিরও বেশি। ফলে আবহাওয়া সহায় থাকলে এ বারের মৌসুম নিয়ে আশাবাদী চাষি থেকে ব্যবসায়ী— সকলেই। 

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT