ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌর শহরের মোঃ রুহুল আমিন ও নিলুফা বেগম দম্পতি দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছর ধরে সন্তানের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন ।ছেলের পুরনো জামা কাপড় জড়িয়ে নিরবে কেঁদে চলেছেন। সোহেল রানা রুবেল (৪৬ বর্তমান বয়স) নামের এক ব্যক্তি ১৯৯৫ সালে এই দম্পতির বড় ছেলে অভিমান করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের শিলাসী মহিলা কলেজ এলাকার মোঃ রুহুল আমিন রেলওয়ে বিভাগে কুষ্টিয়ায় কর্মরত ছিলেন । তিনি পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করলেও তাদের বড় ছেলে সোহেল রানা রুবেল গফরগাঁওয়ে নিজ বাড়িতে থেকে অষ্টম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে বাড়ির পাশে ছোট একটি দোকান চালাতেন। সে সময় তার বয়স ছিল ১৫ বছর। দোকান চালাতে গিয়ে রুবেল দোকানের পুঁজির টাকা নষ্ট করে ফেলে । এই খবরে বাবা রুহুল আমিন ক্ষুব্ধ হন । এতে রুবেলের ভেতর বাবার প্রতি ভয় ও অভিমান জন্ম নেয়। এই ভয় ও অভিমানে ১৯৯৫ সালের শুরুর দিকে বাবা কুষ্টিয়া থেকে বাড়ি আসছেন খবর পেয়ে সোহেল রানা রুবেল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে বাবা মা বাড়ি ফিরে আত্মীয় স্বজন সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু খোঁজাখুজি করেও ছেলের সন্ধ্যান পাননি। ৩০ বছর ধরে এই দম্পতি নিখোঁজ সন্তানের খোঁজ করে চলছেন আর ছেলের ফেলে যাওয়া পেন্ট-শাট আঁকড়ে নিরবে চোখের জল ফেলছেন। রুহুল আমিন ও নিলুফা বেগম দম্পতির সন্তান বিচ্ছেদের নিভৃত ব্যথা আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসিকেও কাঁদয়।
মা নিলুফা বেগম নিখোঁজ সন্তানের জামা কাপড় জড়িয়ে ধরে বলেন, বাবারে কবে মইরা রাই আল্লাই জানে। মরার আগে একবার তর মুখটা দেখবার চাই।
নিখোঁজ সোহেল রানা রুবেলের চাচা শামছু মিয়া বলেন, নিখোঁজ সন্তানের জন্য আমার ছোট ভাই ওস্ত্রী মাঝে মধ্যেই কান্নাকাটি করেন। খারাপ লাগে পোলাডা এত বছরেও ফিইরা আইল না।