ঢাকা | বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ এ কোটালীপাড়ায় ত্রিমুখী গৌরব

author
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২০ মে, ২০২৬ দুপুর ১২:০৮
ad003
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোটালীপাড়া পাবলিক ইনস্টিটিউশন (মডেল) জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ এ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। উপজেলার শিক্ষা অঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিষ্ঠানটি এবার “শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান” হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক সুরেশ দাস “শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান” এবং শিক্ষক অসীম চন্দ্র রায় “শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক” হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।

সম্প্রতি আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা মেডেল ও ট্রফি তুলে দেন কোটালীপাড়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব সাগুফতা হক।

এই ত্রিমুখী অর্জনের খবরে বিদ্যালয়জুড়ে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রধান শিক্ষক সুরেশ দাসের দক্ষ নেতৃত্ব, শৃঙ্খলাবোধ এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই প্রতিষ্ঠানটি এ সাফল্য অর্জন করেছে।

বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের পূর্ব সমরসিংহ গ্রামের সন্তান সুরেশ দাস শিক্ষাজীবন থেকেই ছিলেন মেধাবী ও পরিশ্রমী। তাঁর পিতা সন্তোষ কুমার দাস এবং মাতা সোনেকা রানী দাস। তিনি ১৯৮৮ সালে বার্থী তাঁরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং সরকারি গৌরনদী কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। পরে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে সুনামের সঙ্গে স্নাতকোত্তর (এমএসএস) সম্পন্ন করেন।

২০০২ সালে চাঁদশী ঈশ্বরচন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে মুলাদী মাহমুদজান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) এবং খাঞ্জাপুর-পাঙ্গাশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের শেষদিকে তিনি কোটালীপাড়া পাবলিক ইনস্টিটিউশন (মডেল)-এর প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।

তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়টির একাডেমিক ফলাফল, সহশিক্ষা কার্যক্রম, নৈতিক শিক্ষাচর্চা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে। এর আগেও ২০২৩ সালে তিনি কোটালীপাড়া উপজেলার “শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক” নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২৬ সালে পুনরায় এ সম্মান অর্জন তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও শিক্ষাবান্ধব নেতৃত্বেরই স্বীকৃতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিক্রিয়ায় প্রধান শিক্ষক সুরেশ দাস বলেন, “এই অর্জন শুধু আমার একার নয়। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল এটি। আমরা কোটালীপাড়া পাবলিক ইনস্টিটিউশনকে একটি আধুনিক, মানবিক ও আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি।”

স্থানীয় সুধীজনদের মতে, সুরেশ দাসের মতো দক্ষ, সজ্জন ও শিক্ষানুরাগী প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে কোটালীপাড়া পাবলিক ইনস্টিটিউশন (মডেল) ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে এবং অঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT