ছয় মাস ২০ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিট চালু করা হয়েছে।
বুধবার বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে ইউনিটটি উৎপাদনে আসে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে তৃতীয় ইউনিট থেকে প্রায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে উৎপাদন বেড়ে ২৫০ থেকে ২৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত হতে পারে।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তৃতীয় ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। এত দিন শুধু ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটটি চালু ছিল।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ২০০৬ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লার ওপর নির্ভর করে উৎপাদন শুরু করে। শুরুতে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নিয়ে কেন্দ্রটির যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০১৭ সালে আরও ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট যুক্ত হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়ায় ৫২৫ মেগাওয়াটে। তবে নানা জটিলতায় কেন্দ্রটি কখনো একসঙ্গে তিনটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে পারেনি।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিট থেকে তৃতীয় ইউনিট চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এই ইউনিট থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে। আশা করছি, ২১ মে থেকে এ ইউনিটে ২৫০ থেকে ২৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রথম ইউনিট থেকে বর্তমানে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। সব মিলিয়ে দুটি ইউনিট থেকে গড়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে লোডশেডিং কিছুটা কমে আসতে পারে।
প্রধান প্রকৌশলী জানান, দুটি ইউনিট সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ টন কয়লা প্রয়োজন হয়। বন্ধ থাকা দ্বিতীয় ইউনিটটি মেরামতের জন্য চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান।