ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারখানায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ-সাউন্ডগ্রেনেট-টিয়ারশেল নিক্ষেপ

author
শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২১ মে, ২০২৬ সকাল ৯:২০
ad003
গাজীপুরের শ্রীপুরে ঈদের বেতন-ভাতা ও ছুটিসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করেছে একটি কারখানার শ্রমিকরা। এসময় তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেট নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালের দিকে উপজেলার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড বহেরারচালা এলাকায় অবস্থিত মিতালী গ্রুপের কেএসএস নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় লোকজন, শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১১ দিনের ছুটি, চলতি মে মাসের পূর্ণ বেতন, ওভারটাইম বিল পরিশোধ এবং কয়েকজন কর্মকর্তার অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকরা কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করছিলেন। বুধবার কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে শ্রমিকরা কাজে ফিরলেও বৃহস্পতিবার সকালে কারখানায় এলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণার নোটিশ দেখতে পান তারা ।  এতে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে ২০০ থেকে ২৫০ জন শ্রমিক কারখানায় জোর করে প্রবেশের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে কারখানা ভাংচুরের চেষ্টা চালালে শিল্পপুলিশের সদস্যরা তাদের লাঠিচার্জ করে।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়। 

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, মে মাসের পুরো বেতন ও ১১দিনের ছুটিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে শ্রমিকরা। কর্তৃপক্ষ ১১দিনের দাবি মেনে তাদের শুক্রবার পুর্নদিবস কাজ করে দিতে বলে। এতে তারা রাজি হন। কিন্তু সকালে কারখানার সামনে এসে দেখেন সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তারা কারখানার ভেতর প্রবেশ করতে চাইলে বাধার মুখে পড়েন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।  
মমিন ইসলাম নামে এক শ্রমিক বলেন, 'বেতন না দিয়ে কারখানার কর্তৃপক্ষ এভাবে ছুটি দিলে শ্রমিকরা বিপদে পড়বে। বকেয়া বেতন না দিয়ে জোর করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। '

আনোয়ারা খাতুন নামে একজন বলেন,' বছরে ২টা ঈদ পোলাপান নিয়ে করতে পারিনা। সারা বছর গাদার মতো খাটাখাটুনি করতে হয়। আমাদের পক্ষে কেউ কথা বলেনা।'

অপরদিকে কারখানা বন্ধের নোটিশে কর্তৃপক্ষের দাবি, সুইং সেকশনের কিছু শ্রমিক পূর্বানুমতি ছাড়া ধর্মঘটে অংশ নিয়ে উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটান। এছাড়া অন্যান্য শ্রমিকদের কাজে বাধা, কর্মকর্তাদের হুমকি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে ২০ দিনের অগ্রিম বেতন ও ১০ দিনের ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। নোটিশে বলা হয়, শ্রম আইন অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় ও প্রাপ্য সুবিধা আইনানুেগভাবে দেওয়া হবে। নোটিশে মিতালী গ্রুপের জিএম (এইচআর ও প্রশাসন) এ. এম. নুরুল আমিন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন যায়যায়দিনকে বলেন, “ বুধবার রাতে কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ করে দেয়। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে কারখানা ভাংচুর করতে যায় শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে চেষ্টা করে। এ জন্য টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেট নিক্ষেপ করতে হয়। তবে, এতে কেউ আহত হয়নি। এখন পরিস্থিতে শান্ত আছে। আমাদের পুলিশে সেখানে অবস্থান করছে।'
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT