ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে যুবদলের নয়া নেতৃত্ব পেতে দৌড়ঝাঁপ

author
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৬ সকাল ৭:১৩
ad003
সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের নয় বছর আগে হওয়া কমিটিতে শীঘ্রই পরিবর্তন আসতে পারে। ঈদের পরেই যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দীর্ঘদিনের পুরোনো জেলা কমিটিগুলোকে নতুন করে সাজাতে পারেন। সংগঠনের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত শক্তিশালী সংগঠন গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুবদল নেতারা। 

জেলা যুবদলের পদ প্রত্যাশীরাও এজন্য যার যার মত যোগাযোগ করছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে। প্রতিযোগিতা করে সক্রিয় থাকছেন সংগঠনের নানা কাজে। সম্প্রতি জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার পর যুবদলের নয়া কমিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা মাধ্যমে আলোচনাও বেড়েছে।

২০১৭ সালের শেষের দিকে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের পুরাতন কমিটি ভেঙে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবুল মুনসুর শওকতকে সভাপতি ও অ্যাড. মামুনুর রশিদ কয়েছকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়। ওই পাঁচ নেতাকে পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠনেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরাই পরে ২০১ সদস্যের জেলা কমিটি গঠন করেন। গেল নয় বছরে এই কমিটির অনেকে বিএনপিতে সক্রিয় হয়েছেন। কেউ কেউ প্রবাসেও আছেন। নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন বহু নেতা। 

যুবদলের নেতারা জানিয়েছেন, পুরাতন কমিটির ৪০-৫০ জনের বেশি সক্রিয় নয়। এই অবস্থায় নতুন কমিটিতে কারা আসছেন নেতৃত্বে এই আলোচনা সংগঠনের সকল পর্যায়ের সাংগঠনিক ইউনিটে। একইসঙ্গে নেতৃত্ব পেতে আগ্রহীরা নানাভাবে তদবিরেও নেমেছেন। কেউ সরাসরি যোগাযোগ করছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে, কেউ বিএনপির জেলা নেতাদের উপর-ই ছেড়ে দিয়েছেন নিজের রাজনৈতিক ভাগ্য।

সভাপতি কিংবা আহ্বায়ক পদে তিন যুবনেতা তদবিরে নেমেছেন। এরা হলেন- জেলা যুবদলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রশিদ আমিন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মামুনুর রশিদ কয়েছ এবং বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু। সাধারণ সম্পাদক কিংবা সদস্য সচিবের পদ পেতে সক্রিয় তোফাজ্জুল হোসেন, নুরুল আলম ও শাহ্ মোহাম্মদ ফরহাদ।

এই ছয় নেতাকে যুবদলের পদ পাইয়ে দিতে বিএনপি’র দায়িত্বশীল নেতারাও কেন্দ্রে যোগাযোগ করছেন বলে পদ পেতে আগ্রহী নেতারা জানিয়েছেন। 

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রশিদ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। জেলা যুবদলের বিগত কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন তিনি। গেল বছরের পহেলা জানুয়ারি সভাপতি আবুল মুনসুর শওকত মূল দল বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হলে, তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয় আমিনুর রশিদকে। কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্দেশে আমিন-ই এখন ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

আমিনুর রশিদ বললেন, ঈদের পর সাংগঠনিক টিমের সফর আছে, এটি জানি, তারা এসে যে নির্দেশনা দেবেন সেই অনযায়ী কার্যক্রম চলবে। ছাত্রদল থেকে যুবদল যখন যে দায়িত্ব পেয়েছি, শৃঙ্খলা মেনে পালনের চেষ্টা করেছি। নয়া কমিটি হলে আহ্বায়ক বা সভাপতি পদে দায়িত্ব দিলে সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করতে কাজ করবো।

সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ কয়েছ বললেন, দুর্দিনে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছি। নতুন কমিটি হলে সভাপতি বা আহ্বায়ক পদে-ই কাজ করতে চাই।

কামরুল হাসান রাজু বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। বললেন, সংগঠনের নেতারা নিশ্চয়-ই ত্যাগের মূল্যায়ন করবেন। দলের ক্রাইসেসে মাঠ ছাড়ি নি। সকল অঙ্গ সংগঠনের কাজে নিজেকে যুক্ত রেখেছি। যেহেতু সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম, এখন সভাপতি পদে দায়িত্ব পালনে আগ্রহী। দল যেখানে যেভাবে দায়িত্ব দেবেন, সেখানেই কাজ করবো।’

সাধারণ সম্পাদক বা সদস্য সচিব হতে আগ্রহী তোফাজ্জুল হোসাইন বললেন, গেল ১৭ বছর যখনই পুলিশি হয়রানি হয়েছে, আমি এর শিকার হয়েছি। আন্দোলন সংগ্রামের জন্য রাজধানী ঢাকায় গিয়েও জেল কেটেছি। আমার নেতা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল এমপি। তিনি বলেছেন, যুবদলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করার জন্য প্রস্তুতি নিতে, আমি সেভাবেই কাজ করছি।

যুবদলের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম বললেন, সুনামগঞ্জের এমন কোন আন্দোলন সংগ্রাম নেই যেখানে বিগত সময়ে ছিলাম না। রাজধানীতে গিয়েছি দলের আন্দোলন সংগ্রামে। ২০২৩ ইংরেজিতে এক মাস কেরানীগঞ্জের কারাগারে ছিলাম। দলের নেতারা নিশ্চয়ই এসব বিষয়ের অগ্রাধিকার দেবেন।

শাহ মোহাম্মদ ফরহাদ বললেন, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর থেকে হাসিনা পতনের আন্দোলনে জীবন-বাজি রেখে মাঠে ছিলাম। পুলিশের সকল অ্যাকশন সামনের সারিতে থেকে মোকাবেলা করেছি। কেন্দ্রীয় যুবদল নেতারা এসব জানেন। তারা নিশ্চয়ই ত্যাগের মূল্যায়ন করবেন। 
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT