ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রাহকের কোটি টাকা উধাও, পল্লী বন্ধু'র অফিস ঘেরাও, দুইজন জেলহাজতে

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৬ দুপুর ১২:০১
ad003
নেত্রকোণায় শত শত গ্রাহকের সঞ্চিত অর্থ আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা ‘পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা’র বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আটজনকে অভিযুক্ত করে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে, টাকা ফেরতের দাবিতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের চকপাড়া এলাকায় সংস্থাটির কার্যালয় ঘেরাও করেন। এ সময় হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগী নারীদের উপস্থিতিতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, অধিক মুনাফা ও সহজ শর্তে ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে ‘পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা’র কর্মকর্তারা জেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ডিপিএস, ফিক্সড ডিপোজিট ও দৈনিক সঞ্চয়ের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে। পরে নির্ধারিত সময় পার হলেও গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী নিতীশ চন্দ্র রায় বুধবার সন্ধ্যায় সদর থানায় দাখিল করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, সংস্থাটির মাঠকর্মী তামান্না শেখ ও ম্যানেজার মো. আল-আমিন খানের মাধ্যমে তিনি ১ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট এবং দৈনিক সঞ্চয় হিসেবে আরও ১০ হাজার ৩০০ টাকা জমা দেন। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের চকপাড়া এলাকায় অবস্থিত সংস্থাটির কার্যালয় থেকে দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হয়। সম্প্রতি গ্রাহকরা তাদের সঞ্চিত অর্থ তুলতে গেলে নানা টালবাহানার অভিযোগ ওঠে।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নেত্রকোণা সদর উপজেলার কয়েকজন ভুক্তভোগী কার্যালয় ঘেরাও করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মুরাদ হোসেন, তামান্না আক্তার ও মো. আল-আমিন শেখকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে তামান্না আক্তার ও মো. আল-আমিন শেখকে আদালতে পাঠানো হয়। অভিযোগ না থাকায় মুরাদ হোসেনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মদনসহ হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভুক্তভোগীরা পুনরায় কার্যালয় ঘেরাও করে দ্রুত টাকা ফেরতের দাবি জানান। এ সময় তারা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও গ্রাহকের আমানত উদ্ধার নিশ্চিত করার দাবি তোলেন।

নেত্রকোণা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আল-মামুন সরকার বলেন, “এ ঘটনায় আটজনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT