সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নেত্রকোনার মদনের রিপন মিয়া (৩৭) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। স্ত্রী সহ তার এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। বুধবার (২০ মে) সৌদি সময় সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টায় দিকে এম্বো শহর থেকে ফাইল শহরে যাওয়ার পথে মদীনার কাছে মালবাহী লরির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। তবে রিপন মিয়ার মারা যাওয়ার বিষয়টি শনিবার সকালে এলাকায় জানাজানি হয়। এরপর নিহতের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
রিপন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের গোবিন্দশ্রী বড্ডা গ্রামের খৃষ্টান বাড়ীর মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে।
রিপন নিহত হওয়ার বিষয়টি শনিবার দুপুরে নিশ্চিত করেছেন তার সহোদর ছোট ভাই সৌদি প্রবাসী শামীম আহমেদ।
সৌদি আরব থেকে শামীম আহমেদ জানায়, জীবিকা নির্বাহের তাগিদে গত বছর অক্টোবর মাসে রিপন মিয়া পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এবং সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য সৌদি আরব পারিজামান। গত কয়েক মাস তিনি কঠোর পরিশ্রম করে স্বপ্ন পূরণের আশা জাগান। রিপন সৌদি আরবের এম্বো শহরে থেকে কাজ করতেন। গত কয়েকদিন ওই এলাকা কাজকাম কম থাকায় বুধবার তিনি এম্বো থেকে মদিনা হয়ে ফাইল শহরে টেক্সিক্যাব দিয়ে তার পরিচিত জনের কাছে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় মদিনা শহরের মাগরিবের আজান হওয়ার পর তিনি সেখানে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তিনি তার বাবা ও মার সাথে ভিডিও কলে কথা বলেন। এ সময় মসজিদে নববী ও আশেপাশে শহরের বিভিন্ন অংশ তাদেরকে দেখান। পরে ফাইল শহরের উদ্দেশ্যে টেক্সিক্যাব তার আরও দুজন সহযাত্রী নিয়ে রওনা হয়। কিছুদূর যাওয়া মাত্রই একটি মালবাহী লরি গাড়ি পিছন থেকে ধাক্কা দিলে ক্যাবটি রাস্তার উপরে দুমড়ে মোচড়ে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই রিপন মারা যান এবং গাড়ির চালকের শরীর থেকে একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
শামীম আহমেদ তার ভাইয়ের কাছ থেকে গাড়ি করে যাওয়ার ২২ঘন্টা দূরত্বে থাকেন। তিনি এখনো তার ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পাননি। তবে বাঙালি কমিউনিটির মাধ্যমে শামীম নিশ্চিত হয়েছেন তার ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
নিহতের বাবা বাচ্চু মিয়া বলেন আমার দুই ছেলে সৌদি আরব থাকতো। সবার বড় রিপন কয়েক মাস আগে তার ব্যবসা বাণিজ্য ছেড়ে দিয়ে সৌদি আরব পারিজমান। তার আয় রোজগারও ভালই হচ্ছিল। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস আমার নাতি-নাতনি দুইটা তার বাবাকে হারিয়েছে। আমি আমার আদরের সন্তানকে হারালাম। এখন আমার সরকারের কাছে চাওয়া যাতে আমার ছেলের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করে দেন।