ঢাকা | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনা ওয়াসায় দুর্নীতির মহাসড়ক: বদলির পরেও এমডির পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগ

author
খুলনা ব্যুরো

প্রকাশিত : ২৪ মে, ২০২৬ সকাল ১১:০৮
এমডি মো. কামরুজ্জামান ও ডিএমডি (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালা এমডি মো. কামরুজ্জামান ও ডিএমডি (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালা
ad003
খুলনা ওয়াসা (পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ) জুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা, সীমাহীন দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর প্রশাসনিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। 

বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. কামরুজ্জামান ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি, অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, বদলির আদেশ জারির পরও এমডি পদে বহাল থেকে তিনি কোটি টাকার পদোন্নতি বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে ডিএমডি ঝুমুর বালার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, কর্মচারীদের হয়রানি এবং প্রশাসনিক জুলুমের অভিযোগও উঠেছে।

কর্মচারী ইউনিয়নের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর খুলনা ওয়াসা ভবনে প্রীতিভোজ ও মিষ্টি বিতরণের ঘটনায় তারা প্রতিবাদ জানালে ইউনিয়ন নেতাদের বিরুদ্ধে শোকজ ও বিভাগীয় মামলা দেওয়া হয়। 

এরপর থেকেই সাধারণ কর্মচারীদের মাঝে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া হাজিরা খাতায় জালিয়াতি, বিচারাধীন বিষয়েও বিভাগীয় মামলা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অযৌক্তিক হয়রানি এবং প্রতিশোধমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে ডিএমডির বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে এমডি মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে রুম ডেকোরেশনের নামে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, বিলাসবহুল সামগ্রী কেনায় সরকারি অর্থ অপচয়, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

খুলনা ওয়াসার ১,৬০০ পানির মিটার চুরির ঘটনাও ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

 অভিযোগকারীরা বলছেন, এই ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হলেও প্রকৃত তদন্ত না করে অভিযুক্তদের পদোন্নতির আওতায় আনা হচ্ছে।

এদিকে ওয়াসার গাড়ির জ্বালানি খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে ভুয়া তেলের বিলের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২০ সালে ২৬টি পদের বিপরীতে প্রায় দুই হাজার আবেদন জমা পড়লেও নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই পছন্দের প্রার্থীদের চাকরি দেওয়া হয়। ওই নিয়োগ নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, খুলনা ওয়াসার চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে এমডির বদলির আদেশ কার্যকর করে সংস্থায় সুশাসন ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে খুলনা ওয়াসার এমডি মো. কামরুজ্জামান ও ডিএমডি ঝুমুর বালার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT