বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে নকল স্বর্ণের বারসহ এক সন্দেহভাজন যুবককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে খবর পেয়ে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আটককৃত যুবকের নাম মো. মেহেদী হাসান জনী (২৩)। তিনি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার উত্তর রমজানপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. আতাবর রাঢ়ীর ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার বন্ডকপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে দিবাগত রাত প্রায় ৪টার দিকে মেহেদী হাসান জনী তার মামাবাড়ি এলাকায় কমলাপুর গ্রামে আসেন। পরদিন ২৪ মে সকাল প্রায় ১০টার দিকে গ্রামবাসী তাকে সন্দেহজনকভাবে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করতে দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তার আচরণে অসংগতি লক্ষ্য করলে স্থানীয়রা আরও সতর্ক হন।
একপর্যায়ে তার পরিহিত প্যান্টের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা একটি স্বর্ণের বারের মতো বস্তু উদ্ধার করা হয়। পরে সেটি নকল স্বর্ণের বার বলে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেলের নির্দেশনায় এসআই নুর-আমিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ ওই যুবককে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায় এবং উদ্ধারকৃত বস্তুও জব্দ করে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, নকল স্বর্ণের বার ব্যবহার করে প্রতারণার কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আটক যুবকের গতিবিধি, অবস্থান এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, “আটককৃত ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তুটি এবং ঘটনার সার্বিক বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নকল স্বর্ণ দেখিয়ে প্রতারণার ঘটনা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটছে। এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা জরুরি। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে সম্ভাব্য কোনো প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত হয়েছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।