কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জুবায়ের (২৮) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
গতকাল শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার কোদালিয়া চৌরাস্তা বাজার থেকে হোসেনপুর সড়কের শৈলজানী বিলাসের ফিসারি সংলগ্ন একটি কালভার্টের ওপর থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত জুবায়ের উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের চরপলাশ গ্রামের খালেক মাস্টারের বাড়ির মোঃ আলতাফ উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে পথচারীরা কালভার্টের ওপর এক যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে জুবায়েরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়। তবে হত্যার পেছনের কারণ কিংবা কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
জুবায়ের পেশায় একজন পোল্ট্রি ব্যবসায়ী ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মনোহারি পণ্যের সেলসম্যান হিসেবেও কাজ করতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, জুবায়ের রেখে গেছেন দুটি অবুঝ সন্তান। বড় ছেলের বয়স মাত্র ৪ বছর এবং ছোট সন্তানটির বয়স ৯ মাস। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা হারিয়ে দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার ও স্বজনরা।
পাকুন্দিয়া থানার ওসি (তদন্ত) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যার কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
এদিকে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।