দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর এলাকার একটি বাসাবাড়িতে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক–সংশ্লিষ্ট অভিযোগে অভিযান চালিয়ে দুই খদ্দের, চার নারী এবং এক ভাড়াটিয়াসহ সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানের সময় ইয়াবা ও বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। তবে বাড়ির মালিক ও তাঁর স্ত্রী পলাতক থাকায় তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পৌর এলাকার পূর্ব গৌরীপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম টিটুর ‘বন্ধন ভিলা’ নামের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছামিউল ইসলাম আটক ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ওই বাড়ির নিচতলায় ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগে শেখ হিরোন শাহ ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় সেখান থেকে ছয়টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।
সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার এক নারীকে এক মাস, দিনাজপুরের রামনগর কালিতলা এলাকার এক নারীকে দুই মাস, বিরামপুর উপজেলার এক নারীকে চার মাস এবং ভাড়াটিয়ার স্ত্রীকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ভাড়াটিয়া শেখ হিরোন শাহকে ছয় মাস, নবাবগঞ্জ উপজেলার আব্দুল কাইয়ুমকে দেড় মাস এবং পার্বতীপুর উপজেলার মশিউর রহমানকে দেড় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বুলু মিয়া বলেন, ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ চলার অভিযোগ ছিল। এর আগে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের হাতেনাতে আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন আলামত। ভবিষ্যতেও ওই এলাকায় নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছামিউল ইসলাম বলেন, বাসাবাড়িতে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটক ব্যক্তিদের সাজা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।