ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকুন্দিয়ায় জুবায়ের হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন

author
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৩১ মে, ২০২৬ সকাল ১১:০১
ad003
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক যুবককে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মোঃ রানা কে ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত (২৯ মে) শুক্রবার রাতে জুবায়েরকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরের দিন (৩০ মে) শনিবার ভোরে হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। 

পুলিশ জানায়, নিহত জোবায়ের সম্পর্কে রানার মামাতো ভাই। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘ একযুগেরও বেশী সময়  আগে জেসমিন আক্তারকে বিয়ে করেন রানা। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। পারিবারিক ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে জোবায়েরের সঙ্গে রানার স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় দুই মাস আগে বিষয়টি জানতে পেরে রানার স্ত্রী ও জোবায়েরকে ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসতে বলেন। কিন্তু সম্পর্ক অব্যাহত থাকায় পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে জেসমিন আক্তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রানা স্বীকার করেন, ঈদুল আজহার দুই দিন আগে তিনি জানতে পারেন তার স্ত্রী জোবায়েরের বাড়িতে অবস্থান করছে। সেখানে গিয়ে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পাওয়ার পর ক্ষোভ ও প্রতিশোধের বশবর্তী হয়ে জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈদের পরদিন একটি ধারালো দা সংগ্রহ করে কৌশলে জোবায়েরকে পাকুন্দিয়া উপজেলার কোদালিয়া চৌরাস্তা বাজার থেকে হোসেনপুর রাস্তার শৈলজানী মাদরাসা এলাকার পুরপুরা ব্রিজসংলগ্ন স্থানে ডেকে নেন। শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সেখানে পৌঁছালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জোবায়েরকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কটিয়াদী সার্কেল)-এর নেতৃত্বে প্রধান আসামি রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে রক্তমাখা পোশাকসহ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় (৩০ মে) পাকুন্দিয়া থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT