নেত্রকোণা পৌর শহরের উত্তর কাটলী এলাকায় সুদে টাকা চেয়ে না পেয়ে এক মাদকাসক্ত যুবকের দা’র আঘাতে মনোয়ারা বেগম (৪৮) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্বামী ঠিকাদার আবু চাঁন ও ছেলে মুন্না (২২)। সোমবার রাত আনুমানিক ৮টার পর সংঘটিত এ নৃশংস ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্য, শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর কাটলী এলাকার এরশাদ মিয়ার ছেলে আব্দুর রশিদ (৩২) দীর্ঘদিন ধরে মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে সুদে টাকা লেনদেন করতেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি মনোয়ারা বেগমের কাছে মাদক সেবনের জন্য টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুর রশিদ ধারালো দা দিয়ে হামলা চালান।
হামলায় মনোয়ারা বেগম গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় মাকে রক্ষা করতে গেলে ছেলে মুন্নাও দা’র আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে বাড়িতে এসে স্ত্রী ও ছেলের ওপর হামলার ঘটনা দেখে তাদের বাঁচাতে গেলে আবু চাঁনও হামলার শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার পর মনোয়ারা বেগমের শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহত আবু চাঁন ও মুন্নাকে উদ্ধার করে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুন্নাকে রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আবু চাঁন বর্তমানে নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে নিহতের মেয়ে এষা মনি (১৪) অভিযোগ করে জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে আব্দুর রশিদ পানি পান করার কথা বলে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে অশোভন আচরণের ঘটনা ঘটে বলে সে দাবি করে। পরে বিষয়টি মাকে জানিয়ে সে প্রাইভেট পড়তে চলে যায়। বাড়িতে ফিরে এসে সে তার বাবা ও ভাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। একপর্যায়ে খোঁজাখুঁজির পর ঘরের খাটের নিচে মায়ের নিথর দেহ দেখতে পায় বলে অভিযোগ করে।
ঘটনার খবর পেয়ে নেত্রকোণা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রশিদকে আটক করে। পরে ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করা হয়। নিহতের মরদেহ উদ্ধার ও আলামত সংগ্রহের জন্য সিআইডিকে খবর দেওয়া হয়েছে।
নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত আব্দুর রশিদকে আটক করা হয়েছে। সিআইডি ও পিবিআইয়ের ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয়দের শান্তি ও ধৈর্য বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুদের টাকা ও মাদকাসক্তিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এ ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে তারা হতবাক। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
রাতের আঁধারে সংঘটিত এ রক্তাক্ত ঘটনায় উত্তর কাটলী এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহত মনোয়ারা বেগমের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।