মাদারীপুরের ডাসারে একটি খালের ওপর সেতু না থাকার অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত দশ গ্রামের মানুষ। চরম ভোগান্তি আর ঝুঁকি নিয়ে বাশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে হাজার-হাজার মানুষ। সাঁকো থেকে পানিতে পড়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে,উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের শশিকর চৌমুহনী খালের উত্তর ও দক্ষিন পাড়ের হাজার-হাজার মানুষের চলাচলের জন্য এক সময় এখানে একটি কাঠের ব্রিজ ছিল। সেই ব্রিজটিও তেমন চলাচলের উপযোগী ছিল না।
কোনমতে সেই কাঠের ব্রিজটি দিয়ে ছোট ও মাঝারি যানবাহন দিয়ে চলাচল করা যেত। তবে কয়েক বছর আগে খালে প্রবল স্রোতের কারণে ওই কাঠের ব্রিজটি সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এরপর এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ মাধ্যেমে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেন।
বর্তমানে সেই বাঁশের সাঁকো দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছেন,অসুস্থ রোগী,স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ।বর্ষা মৌসুমে প্রবল স্রোতের কারণে সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে যাতায়াতকারীদের। দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে চরম ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গ্রামবাসী। শিক্ষার্থী মঞ্জু,সাইমুন ও রাকিব জানান, আমরা জীবনের ঝুকি নিয়ে বছরের পর বছর সাকো পাড় হয়ে স্কুলে যাই। অনেক সময় সাকো থেকে পানিতে পরে বই ভিজে যায়। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি এখানে একটি ব্রীজ নির্মান করা হোক।
নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদার জানান,শশিকর চৌমুহনীতে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে একটি পুরোনো লোহার ও কাঠের সমন্বয়ে একটি ব্রিজ ছিল। কয়েক বছর আগে ব্রিজটি ঝড় ও প্রবল স্রোতের কারণে ভেঙে গেছে। এই পথ দিয়ে মাদারীপুরের মস্তফাপুর থেকে গোপালগঞ্জের পয়সার হাট পর্যন্ত হাজার-হাজার লোক যাতায়াত করে।দশ গ্রামের লোক চলাচল করে।এখন ঝুকি নিয়ে বাশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়।একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আসছি।দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ করা হলে জনদূর্ভোগ কমে আসবে।
এবিষয়ে ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, "ডাসার উপজেলার শশীকর চৌমুহনীর ব্রিজটি অনেক আগে ভেঙে যায়।যার ফলে চলাচলে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।আমরা দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের জন্য জরুরি ম্যাসেজে এমপি মহোদয়ের ডিউলেটারসহ ব্রিজের তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছি।এই ব্রিজের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।আশা করি আগামি অর্থবছরের শুরুতে ব্রিজটি নির্মাণ করা যাবে"