শরীরে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে ‘ইমিউন সিস্টেম’ গড়ে তোলার আগে, সেই জীবাণুকে সঠিকভাবে এবং দ্রুততম সময়ে শনাক্ত করার জন্য একটি শক্তিশালী ডায়াগনসিস ব্যবস্থা প্রয়োজন। ভুল ডায়াগনসিস কিংবা ধীরগতির রোগনির্ণয় রোগীর মৃত্যু ত্বরান্বিত করে। কগনিটিভ ওয়ারফেয়ার এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি ঠিক একই রকম। শত্রুর বিরুদ্ধে জনগণের ব্রেইনে প্রতিরক্ষা বর্ম তৈরি করার ঠিক আগের ধাপটি হলো, শত্রুর আক্রমণকে নিখুঁতভাবে ও সময়মতো শনাক্ত করা। আর এর একমাত্র উপযুক্ত এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা হলো রাষ্ট্রের ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম।
গত পর্বে আমরা দেখেছিলাম কীভাবে শত্রুর কগনিটিভ ম্যালওয়্যার অত্যন্ত গোপনে জনগণের মনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, সাজানো সংকটে ক্ষোভের উসকানি দেয়, ‘মাতম সংস্কৃতি’ তৈরি করে এবং বিনোদনের মোড়কে বিষ ছড়ায়। এই সূক্ষ্ম গোলকধাঁধার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার প্রথম দেয়ালটি তুলতে হবে রাষ্ট্রের কগনিটিভ ইন্টেলিজেন্স নজরদারির মাধ্যমে। তাই এই পর্বে আমরা প্রথমে আলোচনা করব মনস্তাত্ত্বিক ডায়াগনসিস করার জন্য রাষ্ট্রের ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম কেমন হওয়া প্রয়োজন, এবং পরবর্তী অংশে জানব কীভাবে জাতীয় মানসিক প্রতিরক্ষা দুর্গ গড়ে তোলা সম্ভব।
কগনিটিভ ডায়াগনসিস
একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ মূলত বহিঃদেশের রণপ্রস্তুতি, হুমকি, অস্ত্র চোরাচালান, নাশকতা, গুপ্তচরবৃত্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ নিয়ে কাজ করে। কিন্তু কগনিটিভ ওয়ারফেয়ারের যুগে, যেখানে যুদ্ধের ময়দানটিই হল মানুষের মন-মগজ, সেখানে রাষ্ট্রের ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম ও তাদের সক্ষমতাকে নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে। এই ডায়াগনসিসের জন্য গোয়েন্দা ব্যবস্থার ভেতর প্রধানত তিনটি
সক্ষমতা সৃষ্টি অপরিহার্য:
১. কগনিটিভ অ্যান্ড সাইকোলজিক্যাল উইং গঠন: রাষ্ট্রের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে প্রথাগত কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মনোবিজ্ঞানী, আচরণগত বিজ্ঞানী, খাদ্য বিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী এবং মাইন্ড-ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বিশেষায়িত উইং গঠন করা অত্যন্ত জরুরি। এই উইংয়ের মূল দায়িত্ব হবে দুটি সমান্তরাল স্তরে কাজ করা, প্রথমত, সমাজে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো বিষাক্ত গল্প, কবিতা, মিউজিক, প্রোপাগান্ডা বা ক্ষতিকর ন্যারেটিভ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং উপযুক্ত মনস্তাত্ত্বিক কাউন্টার-প্ল্যানের মাধ্যমে জাতিকে সেই বিষাক্ত প্রভাব থেকে রক্ষা করা। একই সাথে তারা দেশের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ফল্ট-লাইন (ফাটল) সৃষ্টির আশঙ্কাগুলো প্রতিনিয়ত খুঁজে বের করবেন এবং তা প্রতিরোধে আগাম ব্যবস্থা নেবেন। দ্বিতীয়ত, এটি একটি শক্তিশালী বায়ো-সিকিউরিটি বা জৈবিক নিরাপত্তা প্রাচীর হিসেবে কাজ করবে। খাদ্যে সূক্ষ্ম রাসায়নিক মিশিয়ে একটি পুরো প্রজন্মকে অলস, উর্বরতাহীন ও দীর্ঘমেয়াদে রোগাক্রান্ত করার যেকোনো অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে এই উইং সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। এই লক্ষ্যে তারা দেশের খাদ্য আমদানি, জাতীয় বীজ ভাণ্ডার, প্রধান সরবরাহ চেইন এবং রাসায়নিক ল্যাবগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক ও নিচ্ছিদ্র কাউন্টার-স্যাবোটাজ নজরদারি নিশ্চিত করবে।
২. ভার্চুয়াল জগতের আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম: ডিজিটাল দুনিয়ায় শত্রুর এজেন্টদের ছড়ানো ট্রল, মিম বা শর্ট ভিডিওর মতো মনস্তাত্ত্বিক বিষাক্ত উপাদান শনাক্ত করতে উন্নত ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ‘সোশ্যাল লিসেনিং’ টুলস ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো জাতীয় প্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতি বা জাতীয় অর্জনকে লক্ষ্য করে কোনো নেতিবাচক ক্যাম্পেইন বা আখ্যান ছড়ানো হচ্ছে কিনা, তা একদম প্রাথমিক স্তরেই ডায়াগনসিস করা হবে। যেকোনো ক্ষতিকর কন্টেন্ট ভাইরাল হওয়ার আগেই তার পেছনে থাকা ক্ষতিকর উৎস শনাক্ত করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গোয়েন্দাদের থাকতে হবে। ডিপফেক ভিডিও বা ভয়েস ক্লোনিং, যা মুহূর্তের মধ্যে দাঙ্গা বা রাষ্ট্রীয় বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে, তা রিয়েল-টাইমে শনাক্ত করে উৎস খুঁজে বের করার ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং দ্রুত কাউন্টার-ন্যারেটিভ তৈরি করার দরকার হবে। একই সাথে শত্রুপক্ষ দেশের ভেতরে সহিংসতা ছড়ানোর জন্য ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করে কোনো অবৈধ অস্ত্র, ড্রাগ বা ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন করছে কিনা, তা ট্র্যাক করার সামর্থ্য থাকতে হবে। এছাড়া, দেশের আমলা, সামরিক কর্মকর্তা বা রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত অডিও-ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার যে ফাঁদ শত্রুপক্ষ তৈরি করে, তা রুখতে গোয়েন্দা বাহিনীর বিশেষ কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স সক্ষমতা থাকতে হবে।
৩. ইনফরমেশন থ্রেট ইনভেস্টিগেশন: একজন চিকিৎসক যেভাবে রোগের লক্ষণ দেখে জীবাণুর উৎস খুঁজে বের করেন, রাষ্ট্রের গোয়েন্দাদেরও তেমনি যেকোনো ক্ষতিকর তথ্যের ‘অরিজিন’ নিখুঁতভাবে খুঁজে বের করতে হবে। সমাজে হুট করে ছড়িয়ে পড়া কোনো গুজব, বিভ্রান্তি বা উসকানিমূলক তথ্যের পেছনে কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ডিজিটাল ‘মেশিনের’ হাত রয়েছে, তা চুলচেরা তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা এই ব্যবস্থার মূল দায়িত্ব। রাষ্ট্রের ইন্টেলিজেন্স সিস্টেমকে এমন এক উচ্চতায় পৌঁছাতে হবে যেন তারা শত্রুর কগনিটিভ অপারেশনের গতিবিধি সাধারণ মানুষের বোঝার অনেক আগেই ডায়াগনসিস করে সরকারের নীতি-নির্ধারকদের সতর্ক করতে পারে। এই লক্ষ্যে, উন্নত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণ এবং ইন্টেলিজেন্স অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে দেশের কোনো অঞ্চলে কোনো কারণে সামাজিক অসন্তোষ দানা বাঁধছে কিনা, তা কোনো ধরনের বিক্ষোভ বা সংঘাত শুরু হওয়ার বহু আগেই অনুমান করার সক্ষমতা অর্জন করার প্রয়োজন হবে।
গোয়েন্দা বাহিনীর সংগঠন
ডিজিটাল যুগের পিপলস আর্মির মূল শক্তি তার গোয়েন্দা সক্ষমতার উপরেই নির্ভর করবে তাই এই সংস্থাকে হতে হবে বহুমাত্রিক এবং জনমুখী। স্কুলের শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত আমলা, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও প্রগতিশীল সাংবাদিকসহ সমাজের সব স্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে এই বাহিনী এক বিশাল ও অভেদ্য নেটওয়ার্ক তৈরি করবে। এই নেটওয়ার্কের দায়িত্ব থাকবে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনতার মূল্যবোধ, আস্থা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা সৃষ্টি করা। গোয়েন্দা বাহিনীর মূল রণক্ষেত্র হবে মানুষের মস্তিষ্ক, সাইবার স্পেস এবং মিডিয়া। শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণ বা Perception Warfare শনাক্ত করতে বিশেষায়িত সাইকো-অ্যানালিস্ট, নিউরো-সায়েন্টিস্ট এবং আচরণ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এই সেল কাজ করবে। দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সামাজিক কী কী সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা নিখুঁতভাবে বোঝার জন্য দক্ষ বিশ্লেষক দল থাকবে। কারণ, অভ্যন্তরীণ সংকটের গ্যাপ বা ফাটল দিয়েই শত্রু জনগণকে ভুল পথে চালিত করার সুযোগ পেয়ে যায়।
শত্রুর বহুমাত্রিক আক্রমণ ঠেকাতে পিপলস আর্মির গোয়েন্দা সক্ষমতা হবে একই সাথে অত্যাধুনিক, প্রতিরক্ষামূলক এবং আক্রমণাত্মক। পুরো দেশের মূল যোগাযোগ ব্যবস্থা বা ইন্টারনেট যদি শত্রু কোনোভাবে ডাউন বা ব্ল্যাকআউট করে দেয়, তবে তা সু-সুরক্ষিত রাখার জন্য বিকল্প ও স্বাধীন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সক্ষমতা এই বাহিনীর থাকবে। "সবচেয়ে ভয়ংকর অপারেশন সেটাই, যেখানে ভিক্টিম জানেই না তার পতন কে ঘটিয়েছে।" চিরাচরিত সামরিক শক্তির বাইরে এই অদৃশ্য ও ছদ্মবেশী যুদ্ধ মোকাবেলায় পিপলস আর্মির গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান রক্ষাকবচ এবং মূল অস্ত্র হবে তাদের তীক্ষ্ণ কৌশলগত বিচক্ষণতা। শত্রুর সুক্ষ্মতম চালগুলো ধরতে এই বাহিনীর বিচক্ষণতার প্রয়োগ হবে আরও সুক্ষ।
আবেগ-নির্ভর জনমত এবং দ্রুত ছড়ানো গুজব-সংস্কৃতি" হলো একটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল দেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। যেকোনো গণ-অসন্তোষ, ধর্মীয় উন্মাদনা কিংবা সামাজিক আন্দোলন দানা বাঁধার আগেই গোয়েন্দা বাহিনীকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় সেটির মনস্তাত্ত্বিক ব্যবচ্ছেদ করতে হবে। উদ্ভূত আন্দোলনটি কি জনগণের সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত ও যৌক্তিক কোনো দাবি, নাকি এর আড়ালে শত্রুপক্ষের সুক্ষ্ম কোনো 'ডিভাইড পালস' তা নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য উদঘাটন করাই হবে এই বাহিনীর বিচক্ষণতা। শত্রু সরাসরি কোনো দেশের ইতিহাস বা সংস্কৃতি বদলে দেয় না; বরং তারা বিনোদন, মিডিয়া ও শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে অনৈতিকতাকে একটি স্বাভাবিক 'কালচার' বা সংস্কৃতিতে রূপান্তর করার চেষ্টা করে; যেমন, ঘুষকে ‘স্পীড মানি’ বলে জায়েজ করা, কিংবা খাবারে রাসায়নিক বা ভেজাল দেওয়াকে ‘ব্যবসায়িক বুদ্ধিমত্তা’ বা চতুরতা হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা। নাটক, সিনেমা, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কন্টেন্ট এবং বিশেষ করে স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়ের ভেতরের এই সুক্ষ্ম 'আইডেন্টিটি শিফট' বা জাতীয় পরিচয় পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদী চেষ্টাগুলো এই বাহিনী অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে স্ক্রিনিং করবে। যেকোনো মনস্তাত্ত্বিক বিকৃতির লক্ষণ দেখা মাত্রই তারা তথ্যপ্রমাণসহ নীতিনির্ধারকদের আগাম সতর্ক করবে।
প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা ও একাডেমিক ইন্টেলিজেন্স
এই ধরনের সুক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক-সাংস্কৃতিক আক্রমণগুলো অত্যন্ত জটিল তাই পিপলস আর্মি মনস্তত্ত্ববিদ, সমাজবিজ্ঞানী, নৃবিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ এবং ডাটা সায়েন্টিস্টদের সমন্বয়ে গবেষণা পরিচালনা করবে। এই গবেষক দলগুলোর মূল কাজ হবে শত্রুর সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ধরন ট্র্যাক করা এবং কীভাবে নিজস্ব কৃষ্টি ও মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রেখে তার বিপরীতে শক্তিশালী ‘কাউন্টার-ন্যারেটিভ’ তৈরি করা যায়, তার বৈজ্ঞানিক রূপরেখা প্রস্তুত করা।
শত্রুপক্ষ সরাসরি সম্মুখ সমরে না এসে প্রায়শই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বা দেশীয় সুশীল সমাজ, মানবাধিকার সংস্থা, পরিবেশবাদী সংগঠন কিংবা বুদ্ধিজীবী মহলের ‘থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক’-এর ছদ্মবেশে আবির্ভূত হয়। এরা মূলত শত্রুর এজেন্ডা বাস্তবায়নে অর্থায়ন পায় এবং অনেক সময় দেশের মূল নীতিনির্ধারণী ফোরামে ঢুকে পলিসি লেভেলে আঘাত করার চেষ্টা করে। এই ধরনের ছদ্মবেশী সংস্থাগুলোর অর্থায়নের উৎস এবং তাদের হিডেন এজেন্ডা নিখুঁতভাবে উন্মোচন করার জন্য এই বাহিনীর সর্বোচ্চ স্তরের তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিচক্ষণতা থাকবে। পিপলস আর্মির গোয়েন্দা সংস্থাকে হতে হবে সম্পূর্ণ 'প্রো-অ্যাক্টিভ' এবং 'প্রেডিক্টিভ' । শত্রুর যেকোনো সুক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক, অর্থনৈতিক বা সাংস্কৃতিক চাল চালার আগেই দেশের মানুষের চিন্তা, আচরণ ও বিশ্বাসের জগতকে সুরক্ষিত রাখাই হবে এই দূরদর্শী ও অপরাজেয় গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান পরিচয়।(পর্ব- ৫)
(মাইন্ড-ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের গবেষক)