হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের পার্শ্ববর্তী বড়ইউড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনার ১ মাস অতিবাহিত হলেও স্বপদে ফিরে এসে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কপিল উদ্দিন এলাকার প্রভাব বিস্তার করে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে নানা টালবাহানা শুরু করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অফিসিয়াল কাজ কর্মে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। এতে এলাকার সর্ব সাধারণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, বড়ইউড়ি ইউনিয়নে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্টিত নির্বাচনে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ফরিদ আহমদ। নির্বাচিত হয়ে পরিষদের প্যানেল গঠন করে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তৎকালীন প্যানেল -১ ছিলেন ইউপি মেম্বার আবুল কালাম, প্যানেল-২ মেম্বার আব্দুল মজিদ চৌধুরী ও প্যানেল -৩ সংরক্ষিত মেম্বার মুমিনা বেগম। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে রাজনৈতিক কারনে নির্বাচিত চেয়ারম্যান কারাগার বরণ করেন। বিধি অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যান-১ আবুল কালাম দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও বাদ সাধেন ৫নং ওয়ার্ডের প্রভাবশালী মেম্বার মোঃ কপিল উদ্দিন। তিনি ওই ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের ত্রান ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক। উক্ত কপিল উদ্দিন স্থানীয় প্রভাবশালী জনৈক বিএনপি নেতার আত্মীয় হওয়ায় প্রভাব বিস্তার করে ২২-০৭-২০২৫ইং সালে পুর্বের গঠিত প্যানেলকে বাদ দিয়ে কপিল উদ্দিন নিজেই প্যানেল-১ হয়ে অবৈধভাবে অপর একটি প্যানেল গঠন করেন। পরে চেয়ারম্যানের অবর্তমানে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান কারগার থেকে জামিনে এসে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার জন্য একাধিকবার সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বলার পরও তারা কোন কর্ণপাত করেনি। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন মামলা নং- ৪৬৬১/২০২৬ইং দায়ের করেন। শুনানী শেষে মহামান্য হাইকোর্ট বিগত ৫ মে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদের কার্যক্রমে কোন বাধাঁ সৃষ্টি না করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করেন। উক্ত আদেশের কপিসহ চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ, হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক, বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৮ মে স্থানীয় সরকারের উপসচিব জিয়াউর রহমান জেলা প্রশাসক, হবিগঞ্জকে, হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের পক্ষে ১২ মে সহকারী কমিশনার নুর-ই-হাফসা বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা বেগম সাথী ২০ মে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদকে হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক যথাযথ প্রতিপালনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। স্থানীয় সরকার বিভাগসহ পর্যায় ক্রমে একই ধরনের নির্দেশনা দেয়ার পরও ইউপি সচিব ফয়সল আহমদ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কপিল উদ্দিন একে অপরের যোগ সাজশে ফরিদ আহমদকে দায়িত্ব হস্তান্তরে নানা টালবাহানা শুরু করেছেন। এ ব্যাপারে ইউপি সচিব ফয়সল আহমদ বলেন, ইউএনও স্যার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে পত্র দিয়েছেন। আমাকে অনুলিপি দেয়া হয়েছে। তদাপি আমি মিটিংয়ের জন্য চিটি ইস্যু করেছি। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চিটি আটক রেখেছেন। দফাদারের কাছে ১৩টি চিটিই রয়েছে। এরমধ্যে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদেরও চিঠি রয়েছে। দফাদার মিশু চন্দ্র মালাকার বলেন, আমার কাছে কোন চিটি বা নোটিশ দেয়া হয়নি। নির্বাচিত চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ বলেন, তিনি কোট চিটি পাননি। মহামান্য হাইকোর্ট, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন নির্দেশনা দেয়া সত্ত্বেও আমাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে না। এমনকি আমি যাহাতে অফিসে ঢুকতে না পারি এ জন্য নতুন তালা লাগানো হয়েছে চেয়ারম্যান কক্ষে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কপিল উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।