ঢাকা | শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগে উদ্বেগ- অস্থিরতা, পরিচালকের যোগদানের সাথে সাথেই গণবদলী

author
মোঃ আ‌তিয়ার রহমান, খুলনা ব্যুরো

প্রকাশিত : ৪ জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫
ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন
ad003
খুলনা বিভাগীয় নতুন স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেনের যোগদানের পরপরই ব্যাপক বদলির ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগে অস্থিরতা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। 

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভাগজুড়ে ‘বদলি আতঙ্ক’ তৈরি করেছেন। স্বাস্থ্যখাতের কাজের বিড়ম্বনা দেখা দিয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) এমএম জাহাতাব হোসেনের চাকরি থেকে অবসরে যেতে বাকি ছিল মাত্র ছয় কর্মদিবস। ঈদুল আজহার ছুটির দু’দিন আগে তাকে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে প্রেষণে পাঠানো হয়। নতুন কর্মস্থলে দুই দিন দায়িত্ব পালনের পর শুরু হয় ঈদের ছুটি।

ছুটি শেষে সেখানে যোগদানের চার দিনের মাথায় তাকে অবসরে যেতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে শেষ মুহূর্তে তার বদলির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শুধু এমএম জাহাতাব হোসেনই নন, একই দিনে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের আরও পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দুই কর্মচারীকেও বদলি করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব বদলির আগে পরিচালকের কার্যালয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত দুই পরিচিত ব্যক্তিকে পরবর্তীতে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরে পদায়ন করা হয়। জনশ্রুতি রয়েছে পরিচালক যোগদান করেই খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের একজন ও ফকিরহাটের একজনসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেন কাকে কোথায় বদলী করতে হবে। এমনকি ওই বৈঠকে বসেই বদলী আদেশ ড্রাফট করা হয়।

একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন পরিচালক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরতদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কে কখন বদলির আদেশ পাবেন, তা নিয়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকের মতে, প্রশাসনিক প্রয়োজনের তুলনায় বদলির সংখ্যা ও সময় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ।

অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মীদেরও বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়োগ ও কর্মস্থল নির্ধারণে নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। ফলে তাদের বদলির নির্দেশ বিধি-বহির্ভূত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক সূত্র বলছে, হঠাৎ করে ব্যাপক বদলি প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট দায়িত্বে থাকা কর্মীদের একযোগে সরিয়ে দেওয়ায় অনেক দপ্তরে কাজের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনকি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া হাতে নেওয়ার উদ্যোগও ভেস্তে যেতে পারে এই গণবদলীর কারণে এমনটিও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

কেননা, দীর্ঘদিন ধরে যাদের প্রচেষ্টায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছিল তাদেরও কয়েকজনকে বদলী করা হয়েছে। 
বদলীর তালিকায় আরও রয়েছেন, স্বাস্থ্য পরিচালক দপ্তরের হিসাব রক্ষক মোঃ বাবুল হোসেন, প্রধান সহকারী মোঃ শওকত হোসেন, উচ্চমান সহকারী মোঃ মাসুম বিল্লাহ এবং প্রধান সহকারী মোঃ মাসুম বিল্লাহ এবং খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কে, এম, সফিউর রহমান ও স্টেনো টাইপিস্ট মোঃ আবুল কালাম। পক্ষান্তরে উক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থলে খুলনার ডুমুরিয়া, বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এমনকি বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারী এনে স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে।

পরিচালক দপ্তর থেকে জেনারেল হাসপাতালে প্রেষণে বদলী হওয়া প্রশাসনিক কর্মকর্তা এমএম জাহাতাব হোসেন বলেন, ‘আমার চাকরী জীবনের ৩৮ বছরে দেখিনি কমপক্ষে এক বছর চাকরী থাকতে কাউকে বদলী করা হয়। এটি একটি প্রথা। কিন্তু সেই প্রথাই ভাঙ্গা হলো আমার বদলীর মধ্যদিয়ে। তার পরেও আমি এটি মেনে নিয়েছি।

আউটসোর্সিং সরবরাহকারী ঠিকাদার হেমায়েত হোসেন ফারুক বলেন, কোন আউটসোর্সিং কর্মচারীকে বদলী করতে হলে ঠিকাদারকে জানাতে হবে। কিন্তু আমার দু’জন কর্মচারীকে বদলী করা হলেও আমার সাথে আলোচনা করা হয়নি। এটি পরিচালক পারেন না।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: শেখ মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, এখন তিনি কিছু বলতে পারবেন না। তিনি বলেন আমি সরকারি কাজে ব্যস্ত আছি। কিছু জানার থাকলে রবিবার যোগাযোগ করতে বলেন। তবে তিনি আবার এক কথায় জানান অফিসিয়াল স্বার্থে কিছু রদবদল করা হয়েছে। এটা তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। 
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT