ঢাকা | শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় বেপরোয়া ৯টি সন্ত্রাসী গ্রুপ, বি কোম্পানির চাঞ্চল্যকর তথ্য এখন পুলিশের কাছে: ডিসি ডিবি

author
খুলনা ব্যুরো

প্রকাশিত : ৬ জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৪
ad003
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ডিবির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া।

আজ সকালে নগরের খালিশপুরে খুলনায় অপরাধের বেশির ভাগ ঘটনায় ঘুরেফিরে নয়টি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম আসলেও ২ বছরেও বাহিনী প্রধানদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গত দুই বছরেও একটি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য অস্ত্রও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। নাগরিক নেতা ও স্থানীয়রা রয়েছেন উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায়। কেএমপির দাবি আলোচিত বি কোম্পানির চাঞ্চল্যকর ও  উল্লেখযোগ্য তথ্য এখন তাদের কাছে। 

সম্প্রতি খুলনায় ধারাবাহিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কেএমপি বিশেষ অভিযান শুরু করে। গত বুধবার কেএমপি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ অপরাধবিষয়ক সভায় মহানগরজুড়ে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে ৬ জুন নগরীর খালিশপুরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া লিটন মীর ওরফে কসাই লিটন ও রিফাত হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ, তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোন এবং অন্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করে ‘বি কোম্পানি’ নামে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসহায় মানুষের সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রচারণা চালালেও এর আড়ালে চক্রটি সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, কসাই লিটন শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবু’ নামে পরিচিত রনি চৌধুরীর ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন।

 গত ঈদেও তিনি ‘বি কোম্পানি’র ব্যানারে মাংস বিতরণ করেছেন।আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও ডিজিটাল বিশ্লেষণে ‘বি কোম্পানি’র শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে কেএমপি জানিয়েছেন। 

একই সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘বি কোম্পানি’ নামে পরিচিত সন্ত্রাসী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযানও চলছে।

ডিবির উপপুলিশ কমিশনার আরও বলেন, খুলনা মহানগরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং নগরবাসীর সহযোগিতায় তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ শনিবার কেএমপির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহানগরের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে খুলনা সদর থানা এলাকা থেকে ১৬ জন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানা থেকে ১১ জন, লবণচরা থানা থেকে ১০ জন, খালিশপুর থানা থেকে ১৩ জনসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ দিকে পুলিশের এই দাবির বিষয়ে খুলনার নাগরিক নেতা এড. বাবুল হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, খুলনায় অপরাধের বেশির ভাগ ঘটনায় ঘুরেফিরে নয়টি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম এসেছে। কিন্তু কেএমপিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সংস্থায় গত দুই বছরেও একটি বাহিনীর প্রধান বা কোন উল্লেখযোগ্য অস্ত্রও উদ্ধার করতে পারেনি। 

 স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও অদক্ষতার সুযোগে এবং  তাদের কিছু অসাদু কর্মকর্তারা নিয়মিত এই শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের নিকট থেকে নিয়মিত মাসোহারা পায়। যার কারনে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এতোদিনে শক্তিশালী হয়েছে। 

তারা দীর্ঘদিন যাবত প্রকাশ্যে খুন করে চলেছে। অথচ কেএমপি পুলিশ মিডিয়া কর্মীদের জানান মাদক কান্ডে খুন হয়েছে। সরকারের কঠোর নির্দেশনার পরই কেএমপি পুলিশ কিছুটা নড়েচড়ে বসছে বলে নাগরিক নেতা দাবি করেন। 

 খুলনার সাম্প্রতিক অপরাধজগতে সবচেয়ে আলোচিত নাম গ্রেনেড বাবু। তাঁর আসল নাম রনি চৌধুরী ওরফে বাবু। তিনি সন্ত্রাসী গ্রুপটির নাম দিয়েছেন বি কোম্পানি। এখন তারা এতটাই বেপরোয়া যে জনবহুল এলাকায়ও তারা খুনোখুনি করতে দ্বিধাবোধ করছে না।

পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক অভিযানের ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাব্বিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

এর আগে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত কেএমপির দক্ষিণ বিভাগের পৃথক অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই অভিযানে একটি দেশি অস্ত্র উদ্ধার এবং ১১টি মোটরসাইকেল ও একটি পিকআপ জব্দ করা হয়েছিল।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT