মনজুর হোসেনের সংকলিত এবং সম্পাদিত এবং গয়রহ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বই "মুশতাক আহমেদ [ডিলিটেড বাই দ্য স্টেট]" বইয়ের প্রকাশনা উৎসব ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় ৬ জুন, ২০২৬ ঢাকার মোহাম্মদপুর স্যার সৈয়দ রোডের প্রবর্তনাতে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুশতাক আহমেদের মা জেবুন্নেসা রাজ্জাক, স্ত্রী মাসিয়া আক্তার লিপা, ভাই ডা: নাফিসুর রহমান। এছাড়া উপস্তিত ছিলেন সি আর আবরার, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বন্ধ, পরিজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট মানজুর আল মতিন, আশানুর রহমান, ড: নাফিসুর রহমান, বন্ধু আনিসদৌলা।
আশানুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন "নাগরিকের স্বাধীনতা কখনোই রাষ্ট্র স্বীকার করেনা। আজ এই বইয়ের মাধ্যমে আবার এই প্রশ্নই আসছে রাষ্ট্র কি নাগরিকদের স্বাধীনতা স্বীকার করে কিংবা করবে কিনা? বিভিন্ন দেশের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় উন্নয়ন আর নাগরিকের স্বাধীনতা এক সাথে যায় না। বিগত সরকারের আমলে আমরা উন্নয়নের গল্প শুনেছি। কোভিডের সময় মুশতাক আহমেদ সেই ফাপা উন্নয়নকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। যার জন্য তাকে গ্রেফতার হতে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে জেলখানায় তার মৃত্যু হয়, অথচ টেকসই উন্নয়নের জন্য নাগরিকের সম্পৃক্ততা থাকা জরুরি।
মুশতাক আহমেদের ভাই ডা: নাফিসুর রহমান স্মৃতিচারণ করে বলেন "মুশতাকের সাথে আমার অনেক স্মৃতি। আমাদের সব কিছুই এক সাথে- ছবি আঁকা, ভ্রমণ, কাজ সব। মুশতাক বরাবই খুব সাহসী। সে কুমির নিয়ে কাজ করেছে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করেছে একেবারে শুরুর দিকে। কিন্তু সব কিছুর উর্ধে ছিল তার প্রতিবাদী মন। দেশ অনেক সময় আমাদের বিবেকী মনকে মেরে ফেলে, মন যাতে মরে না যায় সেজন্যই প্রতিবাদ প্রয়োজন। মুশতাক তার প্রতিবাদী মনকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।"
সি আর আবরার, অধ্যাপক, ঢাবি তার বক্তব্যে বলেন "আমাদের রাজনীতি, সমাজ জীবন সব কিছুতেই মুশতাক আহমেদ উজ্জ্বল থাকবেন। এই মৃত্যু আমাকে ভীষণ নাড়া দিয়েছিল। যে কাস্টোডিয়ান টর্চারের স্বীকার তিনি হয়েছেন সেটা রাষ্ট্রের ব্যার্থতা। আজকের এই অনুষ্ঠান আমাদের এক ধরনের দায়। আমাদের ভুলে যাওয়া স্মৃতিকে উসকে দেওয়ার দায়। প্রকাশক এবং পরিবারকে ধন্যবাদ তার স্মৃতিকে ধরের রাখার এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য।"
মানজুর আল মতিন বলেন মুশতাক আহমেদরা ডিলিটেড হন না, তাদের কখনো মুছে ফেলা যায়না। একটা সময় আদালতে দাঁড়িয়ে কথা বলতেও ভয় হতো। সেই সময়কে আমরা পার করে এসেছি, কিন্তু আজ এখানে দাড়িয়ে কথা বলার মানে হয় না, যদি না আদালতকে আমরা বদলাতে পারি। যে আদালত ছয় ছয় বার মুশতাক আহমেদের জামিন নাকচ করেছে শারীরিক অসুস্থতার পরেও, সেই আদালতকে বদলাতে হবে। লড়াই টা আমাদের চালিয়ে যেতে হবে।
সংকলক এবং সম্পাদক মনজুর হোসেন বলেন গত দেড় বছরে আমি মূলত কিছুই করিনি শুধু এই বই নিয়েই কাজ করেছি। মুশতাক ভাই বিষয়ে আমি নিজেও ইমোশনাল।
মুশতাক আহমেদের বন্ধু আনিসদৌল্লা বলেন "মুশতাক আহমেদ ভ্রমন, ফোটোগ্রাফি সব কিছিতেই খুব ভালো ছিল। সুন্দির ভবিষ্যতের জন্য স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্নের জন্য কখনো থেমে থাকেনি। "
অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজক গয়রহের পক্ষ থেকে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ছন্দা মাহবুব বলেন একটা ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে আমরা ছিলাম। সেই সংস্কৃতি আমাদের নীরবতা পালন করতে বাধ্য করছে। এমনকি এখনো আমরা নীরবতা ভাংতে ভয় পাই। এই বই সেই নীরবতা ভেংগে সাহস দেখিয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের বিরুদ্ধে এ এক প্রয়োজনীয় দলিল হয়েও থাকবে।
অনুষ্ঠানের শেষে গান পরিবেশন করেন রেওয়াজ ... অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রুছেলী খান।