ঢাকা | শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বারহাট্টায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা নিয়ে তোলপাড়

‘ধান নষ্ট আমাদের, তালিকায় নাম অন্যদের’ বিক্ষোভে ফুঁসে উঠলেন কৃষকরা

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৭ জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৭
ad003
নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণীত সরকারি সহায়তার তালিকা ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে অকৃষক, প্রবাসী ও কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

শনিবার দুপুরে উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের হুজরাবাড়ি বাজারসংলগ্ন খেলার মাঠে চন্দ্রপুর, মল্লিকপুর, ধারাম, জীবনপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শতাধিক কৃষক সমবেত হয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কৃষকদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় তাদের বিস্তীর্ণ জমির ধান ও অন্যান্য ফসল নষ্ট হলেও সরকারি ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় তাদের নাম স্থান পায়নি। অথচ যাদের জমির ফসলের কোনো ক্ষতি হয়নি কিংবা যারা কৃষিকাজই করেন না, তাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মল্লিকপুর গ্রামের কৃষক আনিছ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “যাদের নাম তালিকায় আছে, তাদের অনেকের ধানের কোনো ক্ষতি হয়নি। অথচ প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নামই নেই।”

একই গ্রামের কৃষক কবির মিয়া জানান, তার প্রায় ১৩০ শতাংশ জমির ধান পানিতে নষ্ট হয়েছে। কিন্তু তিনি তালিকাভুক্ত হননি।

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কৃষক মাজু মিয়া বলেন, “ছয় একরের বেশি জমির ফসল ডুবে গেছে। তারপরও আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে গণ্য করা হয়নি।”

জীবনপুর গ্রামের কৃষক জুনায়েদ মিয়া বলেন, “আমার পাঁচ একর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। অথচ যারা কৃষিকাজই করে না, তাদের নাম তালিকায় রয়েছে।”

চন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক রুপচান মিয়ার অভিযোগ, “আমার দুই একর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু নাম নেই। অন্যদিকে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন এমন ব্যক্তিদেরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দেখানো হয়েছে।”

একই ধরনের অভিযোগ করেন ধারাম গ্রামের কৃষক জয়নাল মিয়াও। তিনি বলেন, “কয়েক একর জমির ফসল নষ্ট হলেও তালিকায় নিজের নাম খুঁজে পাইনি।”

বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে অনেকের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

তারা অবিলম্বে বর্তমান তালিকা বাতিল করে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন তদন্ত ও পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা।

 এ বিষয়ে জানতে বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানার ব্যবহৃত সরকারি মোবাইফোনে গতকাল শনিবার থেকে আজ রোববার দুপুর পর্যন্ত একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। 

বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তারের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT