ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্ত্রীকে নিয়ে গাজীপুর থেকে গ্রামের বাড়ি এসেছিলেন উজ্জ্বল মিয়া (৩৮)। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে কয়েকদিন পরই কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হলো তার। ঘটনাটি ঘিরে নেত্রকোণার সদর উপজেলার গড়কান্দা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত উজ্জ্বল মিয়া সদর উপজেলার গড়কান্দা গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে বিকেলে গড়কান্দা এলাকায় বিবাহিত ও অবিবাহিত যুবকদের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলার একপর্যায়ে বল কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কয়েকজনের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে খেলা পণ্ড হয়ে যায়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই ঘটনার জের ধরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে উজ্জ্বল মিয়া ও তার স্বজনদের গড়কান্দা জামে মসজিদের উত্তর-পূর্ব পাশের একটি কাঁচা সড়কে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের হাতে লোহার রড, বাঁশ ও কাঠের লাঠি ছিল। তারা উজ্জ্বল মিয়াকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্বজনরা প্রথমে তাকে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। টানা কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ৬ জুন রাত ১১টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের চাচা চান মিয়া বাদী হয়ে গত ৭ জুন নেত্রকোণা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩০২, ৫০৬, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
নেত্রকোণা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আল-মামুন বলেন, “হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। এ মামলায় অভিযুক্ত মোঃ রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত প্রাণহানির ঘটনায় রূপ নেওয়ায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।