নীলফামারীর সৈয়দপুরে পৌরসভার বাস্তবায়নে শহরের শেরেবাংলা সড়ক ও শহীদ জহুরুল হক সড়কের কাজে নি¤œমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে।
তবে, এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসক সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা জানিয়েছেন কোনো অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না।
সড়কগুলোর কাজের জন্য টাঙ্গানো সিটিজেন চার্টার বোর্ড থেকে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের রিজিলিয়েন্ট আরবান এ্যান্ড টেরিটরিয়াল ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪১৭.৫০ টাকার রাস্তা, ড্রেন, ফুটপাত ও সড়কবাতির কাজ (প্যাকেজ নং- RUTDP/SAD/2024-25/W-01 (Tender Id-1128568) চলমান রয়েছে। যা’ শুরু হওয়ার তারিখ সিটিজেন চার্টার বোর্ডে উল্লেখ রয়েছে ১৯ অক্টোবর’২০২৫ আর চুক্তি শেষের তারিখ ১৯ জানুয়ারী’ ২০২৭।
সড়কগুলোর কাজ শুরু হওয়ার পর স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে বেশ উৎসাহ-উদ্দিপনা দেখা দিয়েছিল যা’ এখনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু, কাজগুলোর ধীরগতির কারণে তাদের মধ্যে বিরক্তি প্রকাশ পাচ্ছিলো। তারপর আবার কাজ শুরু হয়েছে। সাধারন মানুষজন জানেন না কেমন কাজ হচ্ছে তবে, সড়কগুলোর কাজ শুরু হওয়ায় তাদের কথা-বার্তায় একটা উৎফুল্ল ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে বেশ অনেক বছর ধরে শেরেবাংলা সড়কের বেহাল দশার কারণে এই সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালক যাত্রী, পথচারি ও এলাকাবাসী চরম দূর্ভোগ পোহায়ে আসছে সড়কের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত।
কিন্তু, বিভিন্ন সময়ে আশ্বাসের পরেও এ সড়কের কোনো কাজ হচ্ছিল না। এরপর বছরখানেকের আগে অর্ধকোটির টাকারও বেশী টাকার সংস্কার কাজেও এ সড়কের সামান্যতম সংস্কারও ফিরে আনেনি। তারপর এ সড়কসহ শহীদ জহুরুল হক সড়কের কাজ শুরুর খবরে এলাকার মানুষজনের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু, কাজ শুরুর পর দেখা যায় ধীরগতি। এমনও লক্ষ্য করা গেছে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও ধীরগতির কারণে স্পটে যেয়ে তদারকি করছেন। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামি দলের শহর আমির শনফুদ্দিন খান এজন্যে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
সরেজমিন লক্ষ্য করা গেছে, শেরেবাংলা সড়কের কাজে ঢালাইয়ের আগে রড বিছানো হলেও দুই স্তরে রড বিছানো না এক স্তরে রড বিছানোর কথা তা’ জানা যায়নি। গত শনিবার (৭ জুন) দুপুরে খোদ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে প্রশ্ন করলেও তিনি এ ব্যাপারে কোনো কিছু জানান নি। শুধু জানান, দুই সড়ক মিলে ২৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার কাজ হচ্ছে। পরে, জানা গেছে, তিনি জলঢাকা পৌরসভায় বদলি হয়েছেন। এবং সৈয়দপুর পৌরসভায় নতুন যোগদানকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আইউব আলীকে ৭জুন চার্জ বুঝে দিয়েছেন।
এদিকে, লক্ষ্য করা গেছে, ঢালাইয়ের সরঞ্জামে ভর্তি একটি লড়ি থেকে পাইপের মাধ্যমে লোকজন কাজ করছেন। দুইদিন লক্ষ্য করা গেছে, ঢালাইয়ের কাজ করা হচ্ছে রাতের বেলা। এসময় লক্ষ্য করা যায়, সড়কগুলোর অনেক জায়গায় ষ্ট্রীট লাইট না জ্বললেও আলো-আঁধারিতে ঢালাইয়ের কাজ করা হচ্ছে। এসময় কথা হলে কাজের লোকজন জানান, ঢালাইয়ের সময় পৌরসভার লোক থাকেন। এসময় তারাও আলো সংকটের কথা জানান।
কাজ কেমন হচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে অনেক এলাকাবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা তো জানি না কয়স্তর রড বসানোর কথা কিন্তু, লক্ষ্য করছি একস্তর করে রড বিছানো হচ্ছে এবং রডের মানও নি¤œমানের আর লড়ি থেকে পাইপের মাধ্যমে কাজ করায় ঢালাইয়ে পাথর না গিট্টি এবং কি পরিমান সিমেন্ট ব্যবহার হচ্ছে তাও জানি না। স্থানীয় ক’জন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কাজগুলো নি¤œমানের করা হচ্ছে।
এসময় ক’জন এলাকাবাসী ও ক’জন ঠিকাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপনাদের অনেক সংবাদকর্মীদের দেখছি যারা শুধু ধান্দাবাজী করে বেড়ায় তারা দিনেরবেলা ঠিকাদারের লোকজনের সাথে ফিসির-ফিসির করে কথা বলে টাকা নিয়ে যায় আবার অনেক সংবাদকর্মীদের দেখেছি পৌরসভায় নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের চেম্বারে দরজা বন্ধ করে আলাপ করছে।
এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে না পাওয়ায় কাজের জায়গায় ঠিকাদারের লোক কে রয়েছেন ? জিজ্ঞাসা করেও না পাওয়ায় ঠিকাদার সংশ্লিষ্টদের মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কথা হলে নতুন যোগদানকারী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইউব আলী জানান, অমিতো সবেমাত্র যোগদান করলাম। তবে, সিডিউল অনুযায়ী কাজ বুঝে নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা হলে পৌর প্রশাসক সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা জানান, সিডিউলের বাইরে নি¤œমানের কাজ হলে তা’ মেনে নেওয়া হবে না। এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।