নেত্রকোণা পৌর শহর থেকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মো. কারিম নামে এক সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা যুবককে আটক করে পুলিশ। তার কাছ থেকে সৌদি আরবের একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও চট্টগ্রাম থেকে নেত্রকোণায় আসার বাসের টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, তিনি ভুয়া পরিচয়ে বাংলাদেশি কাগজপত্র ও পাসপোর্ট তৈরির উদ্দেশ্যে নেত্রকোণায় এসেছিলেন। তবে আটক যুবক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি শুধু নিজের হারিয়ে যাওয়া পরিবারের সন্ধানেই বাংলাদেশে এসেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৮ জুন) রাত ১০টার দিকে নেত্রকোনা পৌর শহরের বড়বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগে গত শনিবার (৬ জুন) তিনি চট্টগ্রাম থেকে ‘সোনার তরী’ পরিবহনের একটি বাসে নেত্রকোণায় এসে শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন।
গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বড়বাজার এলাকায় তার চলাফেরা ও কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হলে নজরদারি শুরু হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, একটি দালাল চক্রের সহায়তায় ভুয়া পরিবার ও ঠিকানা ব্যবহার করে জন্মনিবন্ধন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরির পরিকল্পনা ছিল তার। ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাওয়ারও পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে এ ঘটনায় জড়িত কোনো দালাল চক্রের সদস্যের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অন্যদিকে আটক মো. কারিম দাবি করেন, তার কাছে কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। তার মা রোকিয়া সৌদি আরবে মারা গেছেন এবং বাবার নাম রফি। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছেন তার মায়ের বাড়ি চট্টগ্রাম অঞ্চলে। সেই সূত্র ধরেই তিনি বাংলাদেশে এসে আত্মীয়-স্বজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
কারিম বলেন, “আমি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ করেছি, কিন্তু পরিবারের কাউকে পাইনি। নিজের পরিচয় জানার জন্যই বাংলাদেশে এসেছি। যদি পরিবারের কোনো ঠিকানা বা তথ্য খুঁজে পাই, তাহলে ভবিষ্যতে বৈধভাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য আবেদন করার সুযোগ হতে পারে। আমি শুধু আমার শিকড় খুঁজে পেতে চাই।”
তিনি আরও দাবি করেন, সৌদি আরবে তাকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে অস্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি কখনো মিয়ানমারে যাননি এবং নিজের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কেও নিশ্চিত নন।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সরকার বলেন, “আটক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি তিনি বাংলাদেশের নাগরিক নন এবং রোহিঙ্গা হতে পারেন। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ বলছে, আটক যুবকের প্রকৃত পরিচয়, বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য দালাল চক্রের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।