যশোরের মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বখাটেরা নানা ইনামুল হোসেন (৫০)-কে কুপিয়ে হত্যা করেছে। রোববার রাত ১০ টার দিকে উপজেলার স্মরণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেশমা খাতুন বাদী হয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে মণিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
হত্যাকান্ডে জড়িত আবু হুসাইন নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত ইনামুল হোসেন পার্শ্ববর্তী ঝিকরগাছা উপজেলার ছারাসাতপুর গ্রামের মৃত. রহিম সরদারের ছেলে। এদিকে মণিরামপুর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য যশোর আড়াইশ’ শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহতের ভাতিজা সাদ্দাম হোসেন জানান, ইনামুল হোসেনের নাতনী (বোনের মেয়ের মেয়ে) ঝিকরগাছা উপজেলার একটি বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণিতে পড়া-লেখা করে। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে প্রায় ছারাসাত গ্রামের রাব্বি, রাকিব, হুমায়ন, সাকিব, সিয়াম, মেহেদি, চঞ্চল, মিটু, ইউনুস, আরিফ ও রবিউল নামের বখাটেরা উত্যক্ত করতো। শনিবার তিনিসহ নিহত ইনামুল হোসেন তার নাতনীকে উত্যক্ত করার জন্য ওই বখাটেদের বকাঝকা করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় তারা।
ঝিকরগাছা উপজেলার ছারাসাত গ্রামটি মণিরামপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় ওই গ্রামের লোকজন মণিরামপুর উপজেলার স্মরণপুর বাজারে প্রয়োজনীয় কাজ সারেন। ঘটনার দিন রোববার স্মরণপুর বাজার হতে চা পান শেষে বাড়ি ফেরার পথে আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা হামলাকারিরা ইনামুল হোসেনের উপর অতর্কিত ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাকে মারধরের এক পর্যায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলাপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রাখেন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথ্যে ইনামুল হোসেন মারা যায়।
মণিরামপুর থানার ওসি আবু সাঈদ আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতর ঘটনার সাথে জড়িতদের সবার বাড়ি ঝিকরগাছা উপজেলার ছারাসাত গ্রামে। কিন্তু হত্যাকান্ডটি মণিরামপুর উপজেলায় ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।