ঢাকা | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে সাড়ে তিন কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার

author
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২৬ সকাল ৬:০৩
ad003
কক্সবাজার থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি প্রাইভেটকারে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ২৪ হাজার পিস ইয়াবার বিশাল চালান জব্দ করেছে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ। গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন প্রকোষ্ঠ থেকে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ৮ টায় স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সীতাকুণ্ড মডেল থানার সামনে গ্যাস সিলিন্ডারটি কেটে ইয়াবার প্যাকেটগুলো প্রদর্শন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল।

তিনি জানান, সোমবার (৮ জুন) রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীতাকুণ্ডের বড় দারোগারহাট এলাকায় হাক্কানী ফিলিং স্টেশনের সামনে ঢাকা মেট্রো-গ-৪২-২৫২৮ নম্বরের সন্দেহভাজন প্রাইভেটকারটিকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। কিন্তু সংকেত অমান্য করে গাড়িটি দ্রুতগতিতে ঢাকার দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। শুরু হয় রুদ্ধশ্বাস ধাওয়া।

পুলিশের ধাওয়া টের পেয়ে চালক হঠাৎ ইউটার্ন নিয়ে উল্টো পথে চট্টগ্রামের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। কয়েক কিলোমিটার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর অভিযানের চাপে পড়ে বড় দারোগারহাট এলাকায় মহাসড়কের পাশে গাড়িটি ফেলে চালকসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি পালিয়ে যায়।

পরে পরিত্যক্ত গাড়িটি থানায় এনে মঙ্গলবার (৯ জুন) দিনভর নিবিড় তল্লাশি চালানো হয়। প্রথমে দৃশ্যমান কোনো মাদক না মিললেও গাড়ির পেছনে স্থাপিত কালো রঙের একটি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে ওই সিলিন্ডার কেটে ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বার থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এত বড় চালান কোনো একক কারবারির পক্ষে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এর পেছনে আন্তঃজেলা বা আন্তঃসীমান্ত মাদক সিন্ডিকেট জড়িত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। বিশেষ করে কক্সবাজার সীমান্ত এলাকা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা সরবরাহকারী চক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরেই নতুন কৌশল ব্যবহার করে আসছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গাড়ির মালিকানা, চালকের পরিচয়, মোবাইল কল রেকর্ড এবং রুট বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চালানটি ঢাকার কোনো বড় মাদক সরবরাহকারী চক্রের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলার  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) পিপিএম (বার) রাসেল বলেন, মাদক কারবারিরা যতই অভিনব কৌশল অবলম্বন করুক না কেন, আইনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ নেই। এই ঘটনায় জড়িত পলাতক ব্যক্তিদের শনাক্ত করে পুরো সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT