ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিপলস আর্মি ও প্রতিরক্ষা

পর্ব-১২

author
এ ইউ দৌলা

প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২৬ সকাল ১১:১২
ad003
১৯৪০-এর দশক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যখন চিনের গৃহযুদ্ধ চূড়ান্ত রূপ নেয়, তখন কাগজ-কলমে এবং সামরিক শক্তিতে চিয়াং কাই-শেকের কুওমিনতাং বাহিনী ছিল এক অপরাজেয় দানব। এই বাহিনীর পেছনে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ অর্থায়ন এবং যুদ্ধপ্রযুক্তি। তাদের হাতে ছিল সে আমলের আধুনিক মার্কিন রাইফেল, ভারী কামান, ট্যাংক এবং আকাশপথের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার মতো শক্তিশালী বিমানবাহিনী। প্রায় ৪২ লাখ সৈন্যসংখ্যায় তারা মাও সেতুং-এর রেড আর্মির চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী ছিল। অপরপক্ষে, মাও সেতুং-এর পিপলস লিবারেশন আর্মির কাছে কোনো অত্যাধুনিক বিমানবাহিনী বা ট্যাংকের বহর ছিল না। মাও সেতুং-এর মূল ভরসা ছিল চিনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র কৃষক ও সাধারণ মানুষ। সামরিক বিজ্ঞানের হিসাবে চিয়াং কাই-শেকের বাহিনীর সামনে মাও-এর গেরিলা বাহিনীর টিকে থাকারই কথা ছিল না। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে এক অলৌকিক মনস্তাত্ত্বিক সমীকরণ পুরো দৃশ্যপট বদলে দেয়।

কুওমিনতাং বাহিনীর মাঝে বাহ্যিক জৌলুসের  বাসা বেঁধেছিল। চিয়াং কাই-শেকের উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার এবং জেনারেলরা যুদ্ধের ময়দান থেকে বহুদূরে, নিরাপদ ও বিলাসবহুল শহরের আলিশান কোয়ার্টারে জীবনযাপন করতেন। তারা মগ্ন ছিলেন ক্ষমতার লোভ, ব্যক্তিস্বার্থ আর অর্থলিপ্সায়। আমেরিকার দেওয়া কোটি কোটি ডলারের সামরিক ফান্ড, লজিস্টিকস এবং সাধারণ সৈনিকদের জন্য বরাদ্দকৃত রেশনের টাকা এই উচ্চপদস্থ অফিসাররা আত্মসাৎ করতেন। দুর্নীতির গ্রাস এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, অনেক কমান্ডার কাগজের কলমে ‘ভূতুড়ে সৈনিক’ দের নাম দেখিয়ে তাদের পেছনে বরাদ্দ করা সরকারি অর্থ ও খাদ্য নিজেদের পকেটে পুরতেন, অথচ ফ্রন্টলাইনে থাকা আসল সৈন্যরা দিনের পর দিন ক্ষুধার্ত অবস্থায় কাটাত।

যখন ফ্রন্টলাইনের সাধারণ কুওমিনতাং সৈন্যরা দেখল যে, তারা তীব্র শীতে, জীর্ণ পোশাকে, খালি পেটে ফ্রন্টলাইনে বোমাবর্ষণের মুখে দাঁড়িয়ে নিজের জীবন বাজি রাখছে, অথচ তাদেরই কমান্ডাররা বিলাসবহুল ভোজের টেবিলে দামী মদে চুমুক দিচ্ছে, তাদের রেশনের চাল-ডাল কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে; তখন তাদের অন্তর এক তীব্র বিদ্রোহের মুখোমুখি হলো। এই আত্মোপলব্ধি সাধারণ সৈন্যদের লড়ার মোটিভেশনকে এক ধাক্কায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনে। সৈন্যদের মনের ভেতরের নৈতিক জোর ও আনুগত্য তখন তীব্র ক্ষোভ ও হতাশায় রূপান্তরিত হয়। কোটি কোটি টাকার আধুনিক মার্কিন অস্ত্র হাতে থাকা সত্ত্বেও, সেই অস্ত্র তাক করার মতো কোনো মানসিক শক্তি তাদের অবশিষ্ট ছিল না। ঠিক এই মনস্তাত্ত্বিক ফাটলের ওপর আঘাত করেছিলেন মাও সেতুং। মাও-এর পিপলস লিবারেশন আর্মির মূল মন্ত্রই ছিল কমান্ডার এবং সাধারণ সৈন্য একই মেঝেতে ঘুমাবে, একই খাবার খাবে এবং যুদ্ধের ময়দানে কমান্ডার নিজে সবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে। এই চরম ইনসাফ ও সমতার কারণে মাও-এর বাহিনীর মোটিভেশন ছিল ইস্পাতকঠিন। 

গৃহযুদ্ধের চূড়ান্ত দিনগুলোতে যখন এই দুই বাহিনী মুখোমুখি হয়, তখন সমরাস্ত্রের সমস্ত তত্ত্বকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখা যায়। মাও-এর মোটিভেশনাল ফোর্সের সামনে আসার পর, কুওমিনতাং বাহিনীর সৈন্যরা কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই দলে দলে আত্মসমর্পণ করতে শুরু করে। বহু ব্যাটালিয়ন তাদের আধুনিক মার্কিন অস্ত্র ও ট্যাংকসহ সরাসরি মাও-এর পিপলস আর্মিতে যোগ দেয়, কারণ তারা এই বাহিনীর ভেতরের ‘ইনসাফ’ ও সততা দেখে মুগ্ধ হয়েছিল। যে সৈন্যরা চিয়াং কাই-শেকের অধীনে লড়তে গিয়ে এক কদমও এগোতে চাইত না, তারাই মাও-এর পতাকাতলে এসে অবিনাশী যোদ্ধায় রূপ নিল। ফলস্বরূপ, বিপুল সমরাস্ত্র ও আন্তর্জাতিক জোট থাকা সত্ত্বেও কুওমিনতাং বাহিনী তাদের নৈতিক দেউলিয়াত্বের কারণে মাও-এর বাহিনীর সামনে ভেঙে পড়ে এবং চিয়াং কাই-শেক  প্রাণ বাঁচাতে সপরিবারে তাইওয়ানে পালিয়ে যায়। 

১৯৩৬ সালে জেনারেল ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কো যখন স্পেনের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটান, তখন স্পেনের সাধারণ জনগণ ঘরে বসে থাকেনি। ফ্রাঙ্কোর সুপ্রশিক্ষিত ও নিয়মিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে স্পেনের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, লেখক এবং বুদ্ধিজীবীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অস্ত্র হাতে তুলে নেন। গড়ে ওঠে এক বিশাল ‘পিপলস মিলিশিয়া’ বাহিনী। ফ্রাঙ্কোর বাহিনীর মূল চালিকাশক্তি যেখানে ছিল শুধু ক্ষমতা দখল, সেখানে এই মিলিশিয়াদের মোটিভেশন ছিল অত্যন্ত তীব্র। তারা লড়ছিল তাদের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং আত্মপরিচয় রক্ষার জন্য। স্পেনের মাটি থেকে ফ্যাসিবাদকে উপড়ে ফেলতে তারা এতটাই মরিয়া ছিল যে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ‘ইন্টারন্যাশনাল ব্রিগেডস’ নামে এই মিলিশিয়াদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জীবন দিতে স্পেনে ছুটে এসেছিলেন। যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে এই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক শক্তির সামনে ফ্রাঙ্কোর সুপ্রশিক্ষিত বাহিনী বারবার থমকে যেতে বাধ্য হয়েছিল।

কিন্তু যুদ্ধের মাঝপথে এসে এই বিশাল ও সম্ভাবনাময় গণপ্রতিরোধের ভেতরে এক মারাত্মক মনস্তাত্ত্বিক ফাটল ধরে। এই ফাটলটি কোনো বাইরের শত্রু তৈরি করেনি; এটি ছিল তাদের নিজেদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক সংকীর্ণতার ফসল। পিপলস মিলিশিয়া বা রিপাবলিকান জোটটি একক কোনো আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল না। এটি ছিল অ্যানার্কিস্ট, ট্রটস্কিস্ট এবং মেইনস্ট্রিম সোভিয়েত-পন্থী কমিউনিস্টদের একটি ভঙ্গুর মোড়ক। ফ্যাসিবাদের মতো এক বিশাল ও নিষ্ঠুর শত্রুর সামনে দাঁড়িয়ে যেখানে সবার একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল ‘ফ্রাঙ্কোকে প্রতিহত করা’, সেখানে এই উপদলগুলো যুদ্ধের মাঝপথেই তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে মেতে ওঠে। অ্যানার্কিস্টরা চাইল যুদ্ধের মাঝেই প্রচলিত রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে দিতে; অন্যদিকে সোভিয়েত-পন্থী কমিউনিস্টরা চাইল মস্কোর নির্দেশে কঠোর কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে। এই আদর্শিক একগুঁয়েমি তাদের মগজকে এতটাই অন্ধ করে দিয়েছিল যে, তারা প্রধান শত্রুর উপস্থিতি ভুলে নিজেদের ভেতরের ভিন্নমতাবলম্বীদের ‘প্রথম শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে।

১৯৩৭ সালের মে মাসে বার্সেলোনার রাস্তায় অ্যানার্কিস্ট ও ট্রটস্কিস্ট মিলিশিয়াদের সাথে সোভিয়েত-পন্থী কমিউনিস্টদের এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। তারা শহরের টেলিফোন এক্সচেঞ্জ এবং স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্টগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য নিজেদের কমরেডদের হত্যা করতে শুরু করে। ফ্রন্টলাইন থেকে হাজার হাজার অভিজ্ঞ যোদ্ধাকে প্রত্যাহার করে আনা হয় নিজেদের ভাইদের বুকে বুলেট চালাতে। পারস্পরিক অবিশ্বাসের পারদ এতটাই ওপরে উঠেছিল যে, এক দল অন্য দলকে ‘ফ্যাসিস্টদের গোপন এজেন্ট’ বলে অপবাদ দিতে শুরু করে। যে রাইফেলগুলো দিয়ে ফ্রাঙ্কোর বাঙ্কার গুঁড়িয়ে দেওয়ার কথা ছিল, সেই রাইফেলগুলো দিয়ে তারা নিজেদের  বাঙ্কারেই একে অপরের বুক ঝাঁঝরা করে দিচ্ছিল।

চতুর স্বৈরশাসক জেনারেল ফ্রাঙ্কো এবং তার ফ্যাসিস্ট মিত্ররা মিলিশিয়াদের এই অভ্যন্তরীণ আত্মকলহ ও মনস্তাত্ত্বিক ভাঙনকে খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। মিলিশিয়াদের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ যখন তাদের রসদ, সাপ্লাই চেইন এবং সাধারণ জনগণের মানসিক ধৈর্যকে সম্পূর্ণ চূর্ণ করে দেয়, তখন ফ্রাঙ্কো খুব সহজেই এক এক করে তাদের প্রতিটি দুর্গ অবরুদ্ধ করতে শুরু করে। ফলে, সংখ্যাগত আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও, পারস্পরিক ঘৃণা ও আত্মকলহের কারণে পুরো স্প্যানিশ রিপাবলিকান মিলিশিয়া বাহিনী ফ্রাঙ্কোর সামনে ভেঙে পড়ে। ১৯৩৯ সালের মধ্যে ফ্রাঙ্কো পুরো স্পেনের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেন এবং দীর্ঘ চার দশকের এক নিষ্ঠুর একনায়কত্ব কায়েম করেন।

আশির দশকের শুরুতে পেরুর প্রত্যন্ত অঞ্চলের আদিবাসী এবং দরিদ্র কৃষকদের অধিকার রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত গেরিলা বাহিনী গড়ে উঠেছিল। পেরুর কেন্দ্রীয় সরকার তখন গ্রামীণ অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর চরম বৈষম্য ও অর্থনৈতিক শোষণ চালাত।  এই চরম সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষোভকে পুঁজি করে আবিমায়েল গুজমানের নেতৃত্বে ‘শাইনিং পাথ’ গ্রামীণ অঞ্চলে প্রবেশ করে। শুরুতে তাদের আদর্শিক লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতির প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর আস্থা ছিল। গ্রামীণ অঞ্চলের অবহেলিত মানুষ ও কৃষকেরা এই বাহিনীকে নিজেদের ‘মুক্তির দূত’ বলে মনে করত। তারা গেরিলাদের নিজেদের ঘরে আশ্রয় দিত, নিজেদের খাবার ভাগ করে  তাদেরকে দিত এবং সরকারি বাহিনীর গতিবিধির গোপন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে গেরিলাদের সুরক্ষিত রাখত। জনগণের এই নিঃশর্ত ভালোবাসাই ছিল তাদের প্রধান বর্ম। 

কিন্তু প্রাথমিক কিছু কৌশলগত সাফল্যের পর সাথে সাথে শাইনিং পাথ-এর উচ্চপর্যায়ের কম্যান্ড ও ভাবাদর্শে এক চরম মনস্তাত্ত্বিক অবক্ষয় ঘটে। তাদের মগজে এক ধরনের অন্ধ একনায়কত্ব জেঁকে বসে। তারা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, বিপ্লব অর্জনের জন্য যেকোনো চরম পন্থা অবলম্বন করা বৈধ, এমনকি তা যদি নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধেও যায়। যুদ্ধের বিশাল খরচ মেটানো এবং নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য তারা একপর্যায়ে তাদের মূল আশ্রয়স্থল, সেই সাধারণ মেহনতি জনগণের ওপরই জোরপূর্বক চাঁদা ধার্য করা শুরু করে। যে কৃষকদের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তারা অস্ত্র ধরেছিল, সেই কৃষকদেরই রক্তঘাম করা উপার্জনকে তারা জোর করে কেড়ে নিতে শুরু করে। যুদ্ধ যখন তার আদর্শিক পবিত্রতা হারিয়ে চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার হিংস্র খেলায় রূপ নেয়, তখন সাধারণ মানুষের মন থেকে গেরিলাদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ উধাও হয়ে যায়। 

শাইনিং পাথ-এর পতনের সবচেয়ে বড় অনুঘটক ছিল তাদের চরম ইনসাফহীনতা এবং ভিন্নমতের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি। গ্রামীণ অঞ্চলের যেসকল নিরীহ কৃষক বা আদিবাসী গেরিলাদের এই চড়া হারে চাঁদা দেওয়া বা তাদের উগ্র মতাদর্শের সাথে সামান্যতম দ্বিমত পোষণ করতেন, তাদের ওপর নেমে আসত নির্মম কোপ।  গেরিলারা তাদের নিজেদের ভাই-বোনদের ‘বিপ্লবের শত্রু’ বা ‘সরকারের দালাল’ তকমা দিয়ে গ্রামের পর গ্রাম আগুনে পুড়িয়ে দিতে শুরু করে। তারা তাদের আদর্শের সাথে দ্বিমত পোষণকারী নিরীহ কৃষকদের নিজ গ্রামেই নির্মমভাবে হত্যা করে সারিবদ্ধ গণকবর দিতে শুরু করে। একই সাথে, তারা নিজেদের বড় অর্থনৈতিক ফান্ডের লোভে কোকেন চোরাচালানিদের সাথে সরাসরি হাত মেলায় এবং মাদক বাণিজ্যের অংশীদার হয়ে পড়ে। এই নৈতিক অবক্ষয় ও নৃশংসতার কারণে তাদের প্রতি জনগণের যে আত্মিক সমর্থন ছিল, তা সম্পূর্ণ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। রক্ষক যখন ভক্ষক হয়ে দাঁড়ায়, তখন জনগণের মনে ভালোবাসার জায়গায় তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভের জন্ম নেয়। 

তীব্র ক্ষোভ ও দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থা থেকে গ্রামীণ কৃষকেরা গেরিলাদের এই জুলুমের বিরুদ্ধে নিজেদের সুরক্ষায় নিজেরাই গ্রামীণ নাগরিক প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলে। যে কৃষকেরা একসময় গেরিলাদের আশ্রয় দিত, তারাই এবার হাতে লাঠি, বল্লম ও সাধারণ বন্দুক তুলে নিয়ে গেরিলাদের বিরুদ্ধে প্রাচীর হয়ে দাঁড়াল। জনগণের এই সম্মিলিত ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধের মুখে শাইনিং পাথ গেরিলা বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়ে এবং একসময় চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। (পর্ব-১২)

এভাবেই পৃথিবীর বড় বড় গণ আন্দোলনগুলো শত্রুর গোলার আঘাতে নয় বরং তারা শেষ হয়েছে যখন তাদের মগজের বারুদে নৈতিক অবক্ষয়ের পানি ঢুকেছে। পিপলস আর্মি বাইরে থেকে অপরাজেয়, কিন্তু ভেতর থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই একটি স্বাধীন ও স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে সমরাস্ত্রের আধুনিকায়নের চেয়েও হাজার গুণ বেশি নজর দিতে হবে বাহিনীর মনস্তাত্ত্বিক সুরক্ষানীতির ওপর। 

(মাইন্ড-ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের গবেষক)

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT