বানিয়াচং-হবিগঞ্জ 'সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ রত্না ব্রেইলি ব্রিজের দুই দিকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিদিনই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সড়কের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়, যার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রী ও পথচারীসহ জটিল রোগীবাহী যানবাহন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রত্না ব্রিজটি এমনিতেই চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও সংকীর্ণ,সাইনবোর্ড দিয়েও থামানো যাচ্ছে না ভারী যান চলাচল,তাই প্রশাসন থেকে কোনো ধরনের তদারকি না থাকায়,অপরিকল্পিত ও ভারী যানবাহন চলাচলে এবং অতিরিক্ত চাপের কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা ও রয়েছে,তাই একটি গাড়ি ব্রিজ পার হলে তারপর আরেকটি গাড়ি ঢুকে পার হওয়ার কারনে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস সময়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে করে উপজেলা সদরে আসা যাত্রীরা ও অনেক ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
আবার বিশেষ করে হবিগঞ্জ সদরে বসবাসরত অফিসগামী মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না, একইভাবে শিক্ষার্থীরাও সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে ব্যর্থ হচ্ছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, যানজটের কারণে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে বসে থাকতে হচ্ছে তাদের। যে কারণে যানবাহনে থাকা শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দীর্ঘসময় আটকে থাকার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ও অনেক। রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী কামরুজ্জামান কবির বলেন, “ কর্মস্থলে যেতে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু রত্না ব্রিজ এলাকায় আসলেই প্রতিদিনই জ্যামে আটকে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা । এতে আমাদের কর্মজীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। বানিয়াচং-হবিগঞ্জ সড়কের রত্না ব্রিজ এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী যানজট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা।
তারা বলছেন, প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে সময়, জ্বালানি ও আয় সবকিছুরই ক্ষতি হচ্ছে। বাসচালক হেলাল ফকির জানান, এই ব্রিজ এলাকায় আসলেই গাড়ি থেমে যায়। একবার জ্যামে পড়লে বের হতে দুই-তিন ঘণ্টা লেগে যায়। এতে করে নির্ধারিত ট্রিপ দিতে পারি না, মালিকের চাপও বাড়ে।
সিএনজি চালক রুমন বলেন, “যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে মাঝপথেই নেমে যায়। ভাড়া কমে যায়, আবার গরমে গাড়ির ভেতরে বসে থাকা খুব কষ্টকর। প্রতিদিনই এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।ট্রাকচালক হোসেন আহমেদ জানান, পণ্যবাহী গাড়ি দীর্ঘসময় আটকে থাকায় সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। মোটরসাইকেল চালক বাবুল হোসেন বলেন, “রাস্তায় কোনো শৃঙ্খলা নেই। রত্না ব্র্রিজে কার আগে কে উঠবে সেই প্রতিযোগিতা শুরু হয় যানবাহন চালকদের মধ্যে। ছোট-বড় সব গাড়ি এলোমেলোভাবে চলাচল করে, যার কারণে জ্যাম আরও বাড়ে।যেহেতু আজমিরিগঞ্জ উপজেলার কয়েকশত যানবাহনের চলাচলের একমাত্র সড়কের এই ঝুঁকিপূর্ণ রত্না সেতুটি নতুন করে তৈরিকরণ করে কয়েক হাজার যানবাহনের নির্বিঘ্নে চলাচলের উপযোগী করা হয়। এবং যানজট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অতিদ্রুত রত্না ব্রিজটি নতুুন করে তৈরী ও সড়ক প্রশস্তকরণের দাবি জানিয়েছেন অনেক যাত্রী ও চালকরা ।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা, যাতে জনদুর্ভোগ কমে এবং স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করা হয়।