ঢাকা | শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনাবাদি জমি এখন সবজি বাগান, মিঠাপুকুরে পুষ্টি বাগানে হাসছে কৃষকের মুখ

author
মিঠাপুকুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১১ জুন, ২০২৬ সকাল ৭:৫৯
ad003
ঘর ঘেঁষে পড়ে থাকা যে জমিটা একসময় নিছক জঙ্গল আর আগাছায় ভরা ছিল, আজ সেখানেই শোভা পাচ্ছে সবুজ-লাল শাকসবজি। অনাবাদি পতিত জমি চাষের আওতায় এনে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের এক দারুণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান।

​উপজেলার চুহড় ব্লকের ইসলামপুর গ্রামে মাত্র ১.৫ শতক জমিতে গড়ে তোলা এই প্রদর্শনী বাগানটি এখন এলাকার অন্য চাষিদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। পতিত জমি এখন পুষ্টির ভান্ডার।

​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় , কৃষক মিজানুর রহমানের বসতবাড়ির আঙিনায় মাত্র ১.৫ শতক জায়গায় পরম যত্নে গড়ে তোলা হয়েছে এই পারিবারিক পুষ্টি বাগানটি। বাগানে রয়েছে মোট ৫টি বেড এবং দুই পাশে দুটি বিশেষ খাঁচা। ৫টি বেডে চাষ করা হয়েছে বেগুন, কলমিশাক, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন মৌসুমী সবজি। আর বাগানের ওপরের মাচায় ঝুলছে লতাজাতীয় সবজি।

কৃষক মিজানুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন,​ এই জায়গাটা একবারে অনাবাদি পড়ে ছিল, কোনো কাজেই আসত না। পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি অফিস আমার সাথে যোগাযোগ করে এবং তাঁদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় এই বাগানটি গড়ে তুলি। এখন এই বাগান থেকে আমরা সারা বছর একদম বিষমুক্ত, নিরাপদ সবজি পাচ্ছি। পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটিয়েও উদ্বৃত্ত সবজি বাজারে বিক্রি করে বেশ ভালো টাকা আয় হচ্ছে। অন্যরাও পরামর্শ নিচ্ছে।

 মিজানুর রহমানের মতো উপজেলার অনেক প্রান্তিক চাষিই এখন এই প্রকল্পের মাধ্যমে সুফল পাচ্ছেন। রাসায়নিকমুক্ত ও নিরাপদ সবজি উৎপাদিত হওয়ায় গ্রামীণ পরিবারের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণে এটি বড় ভূমিকা রাখছে।

মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হেকীম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা, এক ইঞ্চি জমিও যেন পতিত না থাকে, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি। পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রকল্প গ্রামীণ নারীদের এবং কৃষকদের একদিকে যেমন পুষ্টি নিরাপত্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করছে। তিনি বলেন, আমরা উপজেলার প্রতিটি ব্লকেই এই ধরনের পুষ্টি বাগান ছড়িয়ে দিচ্ছি এবং কৃষকদের বীজ, সারসহ সব ধরনের কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রেখেছি।"
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT