জেন্ডার সমতা অর্জন এবং বৈষম্য নিরসনে নাগরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১১ জুন) নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদের সভাকক্ষে এ সভার আয়োজন করে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। ডেমক্রেসিওয়াচের ফেসিং (FACING) প্রকল্পের আওতায় জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপ (জার্মানি)-এর কারিগরি সহযোগিতা এবং কানাডিয়ান হাই কমিশন, সুইজারল্যান্ড দূতাবাস ও ইউএসএআইডির আর্থিক সহায়তায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক রেজাউল আলম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান।
প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম উপস্থাপন করেন ডেমক্রেসিওয়াচের জেলা প্রকল্প সমন্বয়কারী মুজিবার রহমান। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রভাব বিস্তার, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার চাওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজের, বিশেষ করে যুব, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব, স্বীকৃতি ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
সভা পরিচালনা ও বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন ডেমক্রেসিওয়াচ, রংপুরের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ও আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর আব্দুস সেলিম।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীলরতন দেব, কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন্নাহার সাহাজাদি, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কে. এম. আকতার উল ইসলাম, নারী ও শিশু ডেস্ক ইনচার্জ এএসআই সীমা রাণী, উপজেলা আইসিটি সহকারী প্রোগ্রামার মিজানুর রহমান এবং ব্র্যাকের লিগ্যাল এইড অফিসার মখলেছুর রহমান।
এছাড়াও কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডেমক্রেসিওয়াচ ফেসিং প্রকল্পের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নাদিরা আক্তার এবং সহযোগী সংস্থা উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থার মাঠ সমন্বয়কারী সালমা আক্তার ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সদস্য সচিব রোকসানা আফরোজ সাথী প্রমুখ।
বক্তারা জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত সেবা প্রদান ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।