ঢাকা | শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যাডভোকেটস এর বিবৃতি

প্রস্তাবিত বাজেট তামাকমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকারের পরিপন্থী

author
যাযাদি রিপোর্ট

প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৬ দুপুর ১:১৭
ad003
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাক ব্যবহার হ্রাসের পরিবর্তে তামাক শিল্পের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যাডভোকেটস (বিটিসিএ)। সংগঠনটির মতে, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট, ই-সিগারেট ও ভেপজাতীয় পণ্যকে কর কাঠামোর আওতায় এনে কার্যত বৈধতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

শুক্রবার বিটিসিএ-এর আহ্বায়ক ইকবাল মাসুদ, মডারেটর সুশান্ত সিনহা, সৈয়দা অনন্যা রহমান, ফারহানা জামান লিজা, সামিউল হাসান সজীব, আবু রায়হান ও ইব্রাহীম খলিল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। 

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, সরকার একদিকে দেশকে তামাকমুক্ত করার অঙ্গীকার করছে, অন্যদিকে এমন বাজেট প্রস্তাব দিয়েছে, যা সেই লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন ধরনের তামাক ও নিকোটিনজাতীয় পণ্য নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে দাবির প্রতি সমর্থন না করে সরকার সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞার ধারা প্রত্যাহার করে এসব পণ্যকে করের আওতায় এনে বাজারে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 

বিটিসিএ-এর নেতৃবৃন্দের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের কোটি কোটি কিশোর ও তরুণ নতুন ধরনের নিকোটিনে আসক্তির ঝুঁকিতে পড়বে। স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব আয়ের চিন্তা থেকে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়াবে এবং তামাকজনিত রোগ, উৎপাদনশীলতা হ্রাস ও অকালমৃত্যুর কারণে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ক্ষতির কারণ হবে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, সিগারেটের দাম বাড়ানোর হলেও তা জনস্বাস্থ্যগত দৃষ্টিকোণ থেকে যথেষ্ট না। দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ সিগারেট বিক্রি হয় নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে। ওই স্তরের মানুষের কাছে বিক্রি হওয়া সিগারেটের দাম মাত্র ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে এই বৃদ্ধি কার্যত অকার্যকর। 

বিটিসিএ জানায়, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডভেলোরেম করের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট (স্পেসিফিক এক্সাইজ) কর আরোপের সুপারিশ করে আসছেন। কিন্তু সেই সুপারিশ উপেক্ষা করায় সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে এবং তামাক কম্পানিগুলো অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাবে।

সংগঠনটির মতে, নিম্নস্তরের সিগারেটের নামমাত্র মূল্য বৃদ্ধি, বিড়ি, জর্দা ও গুলের মূল্য কার্যকরভাবে না বাড়ানো এবং নতুন নিকোটিনজাত পণ্যকে বৈধতা দেওয়ার ফলে এবারের বাজেট তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি বিপরীতমুখী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। 

তবে সংগঠনটি সিগারেটের ট্যাক্স স্ট্যাম্পে কিউআর কোড সংযুক্তকরণ, ডিজিটাল ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ এবং তামাকজাত পণ্যের কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বৃদ্ধির মতো উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। এসব পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব বৃদ্ধি সম্ভব হবে।

বিবৃতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত বাজেট পুনর্মূল্যায়ন এবং জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা প্রয়োজন। 

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT