নেত্রকোণা পৌর শহরের ছোট গারা এলাকায় ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ার পর গত শুক্রবার দিনভর ও গভীর রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েন শতাধিক পরিবার।
ট্রান্সফরমার স্থাপনে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানতে একাধিকবার ফোন দিলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে শহরের ছোট গারা এলাকার একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। পরে ভুক্তভোগীরা বিপিডিবি নেত্রকোণা জেলা কার্যালয়ে অভিযোগ জানান।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিপিডিবি নেত্রকোণা কার্যালয়ের বর্তমানে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনকারী সহকারী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দ্রুত নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেন বলে জানান এলাকাবাসী।
তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ অফিসে যান। সেখানে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের জন্য তাদের কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, চাহিদাকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ট্রান্সফরমার হ্যান্ডট্রলিতে তোলা হলেও সেটি আর ঘটনাস্থলে নিতে দেওয়। হচ্ছেনা। ফলে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ভোগও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ অফিসে অপেক্ষা করতে দেখা যায় বিদ্যুৎ বিছিন্ন এলাকার কিছু লোকজন'কে।
সরেজমিনে গেলে তাদের অভিযোগ, ৩০ হাজার টাকা না দেওয়ার কারণেই ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনের কাজ বিলম্বিত করা হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এবং বিষয়টি জানতে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি সহকারী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জরুরি সেবা নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বর্তমান ঘটনার মতো দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থেকে এমন ভোগান্তির মুখে পড়েননি বলে দাবি তাদের।
এদিকে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এতে একদিকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকেরা, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভ্রান্তিতে পড়েন অফিসের কর্মচারীরাও।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে, ঘটনাস্থল থেকে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ সময় অফিসের এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে পরবর্তীতে বিদ্যুৎ নিয়ে এমন জটিলতায় উর্ধতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।