অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম সহজ ডটকমকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ, সেবায় ব্যর্থতা, অতিরিক্ত চার্জ আদায় এবং ই-টিকিটিং ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।
কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরার সময় অনেক যাত্রী অনলাইনে টিকিট কেটে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, অনলাইনে টাকা পরিশোধের পরও নির্ধারিত পরিবহন প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ পৌঁছেনি অথবা যাত্রার ঠিক আগে টিকিট বাতিলের বার্তা পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের কয়েকজন জানান, ঢাকা থেকে বগুড়া ও নওগাঁগামী বাসের টিকিট সহজ ডটকমের মাধ্যমে কেনার পর যাত্রার মাত্র কিছু সময় আগে টিকিট বাতিলের বার্তা পান। ফলে ঈদের ব্যস্ত সময়ে তাঁরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেকেই শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত যাত্রা করতে পারেননি বলেও অভিযোগ করেন।
সমালোচকদের অভিযোগ, বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সহজ-সিনেসিস যৌথ উদ্যোগের অধীনে পরিচালিত টিকিটিং সিস্টেমে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম চলছে। তাঁদের দাবি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আদায় এবং টিকিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সহজ ডটকমের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, প্রতিদিন দুই থেকে তিন লাখ গ্রাহক প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে টিকিট ক্রয় করেন। ঈদ ও অন্যান্য ছুটির সময়ে এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, টিকিট বিক্রির প্রকৃত তথ্য ও রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়ে অসঙ্গতি থাকতে পারে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠানকে রেলওয়ের টিকিটিং ব্যবস্থায় একচেটিয়া সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে ‘সার্ভিস চার্জ’ ও ‘কনভিনিয়েন্স ফি’র নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক ভুক্তভোগী। তাঁদের দাবি, সেবার মানের সঙ্গে এসব চার্জের কোনো সামঞ্জস্য নেই।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও রেল বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান বলেন, রেলওয়ে সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যাতায়াতের মাধ্যম। এ খাতে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা সিন্ডিকেট থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, ই-টিকিটিং ব্যবস্থার ওপর জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং একটি আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহজ ডটকমের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির হটলাইন নম্বরেও একাধিকবার ফোন করেও কোনো গ্রাহকসেবা প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।