ঢাকা | শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাইকোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে

author
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৬ জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৮
ad003
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের আদেশ উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে। আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত চার সেবাকর্মীকে অবৈধভাবে ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর না হওয়ায় এমন অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৯ জানুয়ারি কোনো কারণ ছাড়াই সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের চার সেবাকর্মী নুরজাহান, ইদ্রিস আলী, মেহেদী হাসান ও সাহেব আলীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করেন তৎকালীন অধ্যক্ষ ডা. রুহুল কুদ্দুস। পরে তাদের স্থলে নতুন চারজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন (নং-৬৩০৩/২০২২) দায়ের করেন। ২০২২ সালের ৫ মে বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ ছাঁটাই ও নতুন নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন এবং পূর্বের চার কর্মীকে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের অনুলিপি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন অধ্যক্ষ ডা. রুহুল কুদ্দুস আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করে তাদের যোগদান করাননি। বর্তমান অধ্যক্ষ ডা. আরিফ আহমেদও বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রেখেছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

ভুক্তভোগী নুরজাহান বলেন, কলেজের সাবেক ও বর্তমান দুই অধ্যক্ষই আমাদের সঙ্গে অবিচার করেছেন। চার বছর ধরে চাকরি হারিয়ে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আমাদের পুনর্বহাল না করে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা আবারও উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২২ মে ২০২৬ তারিখে নতুন করে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ৪২ জন সেবাকর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অথচ আদালতের নির্দেশপ্রাপ্ত চার কর্মীকে এখনও কাজে যোগদান করানো হয়নি।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আরিফ আহমেদ বলেন, এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছে। হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দেবে, সেটিই আমরা অনুসরণ করব। চারটি পদ শূন্য রেখেই নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চারজনকে পুনর্বহাল না করে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় আদালতের আদেশ অমান্যের বিষয়টি সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT