ঢাকা | বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ বছরের শিশু সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৬ জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪১
ad003
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে ১০ বছর বয়সী এক শিশু সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে।

এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ড হলেও দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। 

অভিযুক্তের নাম মোহন তালুকদার (২৫)।  তিনি মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। 

মোহন তালুকদারের দলীয় পদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সোহেল রানা। 

মামলার এজাহার, আদালতের নথি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। মা স্থানীয়ভাবে বাসাবাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান। মামলায় শিশুটিকে কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে ঘরে শিশুটি ও তার দুই ছোট বোন ছিল। এ সময় প্রতিবেশী মোহন তালুকদার ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলা এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে শিশুটি ঘটনাটি দীর্ঘদিন গোপন রাখে।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, চলতি বছরের ১২ মার্চ শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তার শারীরিক অবস্থায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে ধর্ষণের ঘটনার কথা জানায়। পরদিন একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাফি করালে রিপোর্টে ১৩ সপ্তাহের গর্ভধারণের তথ্য পাওয়া যায়। 

১৫ মার্চ অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও একই ধরনের রিপোের্ট আসে। এদিনই আইনি পদক্ষেপ নিতে পরিবারটি মোহনগঞ্জ থানায় গেলে আদালতে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে দাবি তাদের। পরে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের সাথে পরামর্শ করে শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ২৮ এপ্রিল আদালতে  অভিযোগ দায়ের করেন। 

পরে আদালত মোহনগঞ্জ থানাকে মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনায় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পর ২ মে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত মোহন তালুকদার গা ঢাকা দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করার জন্য উদ্যোগ নিলেও পরে সেটি ব্যর্থ হয়।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, স্বামী বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দিনমজুরের কাজ করে। আমি মানুষের বাসায় কাজ করে সংসার চালাই। আমার মেয়েটা ছোট মানুষ, কিছুই বুঝে না। তার জীবনটা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। মামলা করেছি, কিন্তু আসামি এখনো ধরা পড়েনি। আমরা গরিব বলে হয়তো বিচার পেতে কষ্ট হচ্ছে। আমি আমার মেয়ের জন্য বিচার চাই। 

তিনি বলেন, আসামিকে খুঁজে পায় না। পুলিশ বলে আমরা নাকি আমাসিকে খুঁজে বের করে দিতাম। পরে তারা ধরবে।

ভুক্তভোগীর দাদী বলেন, আমরা খুব অসহায়, কোথাও বিচার পাচ্ছি না। 

মামালর পর অভিযুক্ত মোহন তালুকদার পলাতক থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। 

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, মামলার পরপরই মোহন তালুকদার পলাতক রয়েছে। মোবাইলফোন ব্যবহার না করার কারণে তার অবস্থান সনাক্ত করা যাচ্ছে না। চারদিকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তার করতে পারব আশা করছি।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT