মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের লামুয়া গ্রামে এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় লামুয়া গ্রামের মুসলিম মাস্টারের মাদকাসক্ত ছেলে আনোয়ার হোসেনকে (৩৮) গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপরাধীর ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ওই শিশু প্রতিদিনের মতো মক্তবে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে নির্জনতার সুযোগ নিয়ে আনোয়ার শিশুটিকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ঘরের দরজা বন্ধ করে সে শিশুর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরবর্তীতে শিশুর চিৎকার ও শারীরিক অবস্থা দেখে বিষয়টি জানাজানি হলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো লামুয়া গ্রামে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনা শোনার পরপরই ফুসে ওঠে স্থানীয় এলাকাবাসী। শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং অভিযুক্ত আনোয়ারের বাড়ি ঘেরাও করেন। এরপর খবর দেওয়া হয় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশকে। সংবাদ পাওয়া মাত্রই শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কুখ্যাত নির্যাতনকারী আনোয়ারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং লামুয়া গ্রামের সর্বত্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আনোয়ার এলাকায় একজন চিহ্নিত মাদকাসক্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার মতো সমাজবিরোধীর কারণে আজ এক অবুঝ শিশুর জীবন বিপন্ন। এলাকাবাসীরা জানান, "আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং ধর্ষক আনোয়ারের সর্বোচ্চ শাস্তি-ফাঁসি দাবি করছি। প্রশাসন যেন কোনো ধরনের শিথিলতা না দেখায়। এই বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি তদন্ত আব্দুর রাজ্জাক গণমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ তৎক্ষনাৎ ঘটনাস্থলে পৌছে ধর্ষক আনোয়ারকে থানায় নিয়ে আসে। নির্যাতিত শিশুকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মৌলভীবাজারে ভর্তি করা হয়েছে।